৩২ নম্বরের বাড়ি ধ্বংসের ঘটনায় পিতার স্মৃতি ও ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা নিয়ে আক্ষেপ; মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান বিশ্বাসঘাতকতা হলেও সাধারণ মানুষের প্রতি সম্মান ও আস্থা হারাতে নারাজ
মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও বিশ্বাসকে নিজের পারিবারিক শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর ভাষায়, রাজনীতি কোনো ক্ষমতা অর্জনের জন্য নয়, মানুষের সেবা করার জন্য। রাজনীতি করতে গিয়ে কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করলে সেটি তার নিজের দুর্বলতা; তাতে মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের জায়গা থেকে সরে আসার কারণ নেই।
ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা নিয়ে সাংবাদিক সুলতানা রহমানের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।
৩২ নম্বরের বাড়ির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, বাড়িটি উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি ও তাঁর বোন শেখ রেহানা পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা সেটি ট্রাস্ট করে জনগণের বাড়িতে পরিণত করেছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন,
‘এই বাড়ি থেকেই জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, এখানেই ১৯৭১ সালের বীরাঙ্গনাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয়েছিল এবং এখানেই আমার মা-বাবা-ভাইদের হত্যা করা হয়েছিল। ওরা কেন এতে আগুন দিল আর বুলডোজার দিয়ে ভাঙল?’
তিনি বলেন, দালানকোঠা ভেঙে ফেলা সম্ভব হলেও ইতিহাস ও স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব নয়। সব কষ্ট বুকে নিয়েই তিনি বাবার স্বপ্ন পূরণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ করেছেন।
অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধুর মতো সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত বিশ্বাস ও ভালোবাসা প্রকাশ করার কারণে তাঁকে খেসারত দিতে হচ্ছে কি না—সাংবাদিকের এমন অনুভূতির জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষকে ভালোবাসা ও সম্মান দেওয়া তাঁদের পারিবারিক শিক্ষা।
নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর বাবা শেখাতেন, রিকশাচালক কিংবা বাসার গাড়িচালকদেরও ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করতে এবং গৃহকর্মীদের সম্মান জানাতে।
শেখ হাসিনা বলেন,
‘রাজনীতি করতে গিয়ে কেউ বেইমানি করলে সেটা তার দুর্বলতা। কষ্ট হলেও আমি বিশ্বাস করি রাজনীতি কোনো ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের সেবা করার জন্য।’
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে নানা কষ্ট এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিজ্ঞতার মধ্যেও সাধারণ মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও বিশ্বাসকে তিনি পারিবারিক মূল্যবোধের অংশ হিসেবেই দেখতে চান। তাঁর কাছে রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতা নয়, মানুষের সেবা।
