শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদে পুর্নবহাল করাই আওয়ামীলীগের লক্ষ্য।।
।। জয় বাংলা প্রতিবেদন ।।
সাবেক প্রবাস কল্যাণ কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী একজন সজ্জ্বন ব্যক্তি। প্রজ্ঞাবান রাজনীতিক। তাকে জয় বাংলা’র পক্ষ থেকে বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি খুব সহজ ও দিগনির্দেশনাকারি বক্তব্য রাখেন। তাঁর আলাপচারিতার সারসংক্ষেপ পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।
যদি নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়, আওয়ামীলীগ নির্বাচনে যাবে কিনা? প্রশ্ন করলে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আওয়ামীলীগ নির্বাচনমুখি দল, নির্বাচনের পরিবেশ বজায় থাকলে আওয়ামীলীগ নির্বাচনে যাবে। কিন্তু এই অবৈধ ইউনুস সরকার নির্বাচন দিলে দেশের জনগণ অংশ নেবে না। কেননা, লেভেল প্লেইয়িং পরিবেশ থাকবে না। জনগণের রাজনীতিতে বিশ্বাসী আওয়ামীলীগ। জনগণ না থাকলে আওয়ামীলীগ থাকবে না। এরপরও, আওয়ামীলীগ একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং তার সিদ্ধান্তে দল যদি সিদ্ধান্ত নেয় এবং নির্বাচনে অংশ নিলে দেশের জনগণের যদি ভালো হয়, তবে আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অংশ নেবে।
আপনি বলছেন, ইউনুস সরকার অবৈধ। তাহলে অবৈধ সরকার নির্বাচন দিলে তো অবৈধই হবে। প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, অবশ্যই অবৈধ এই ইউনুস সরকার। তার কোনো এখতিয়ার নেই নির্বাচন দেওয়ার। কিন্তু দেশে অপরাজনীতি চলছে। এ পরিবেশ থেকে দেশ ও জনগণকে উদ্ধার করতে আন্দোলনের অংশ হিসাবে দল বা শেখ হাসিনা যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আওয়ামীলীগ নির্বাচনমুখী দল বললেন, কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিলেন না, তাহলে এই অবৈধ সরকারকে হটাবেন কিভাবে?এর উত্তরে শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, অতীতে প্রমাণ আছে, অনেক অবৈধ সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে বিতাড়িত করা হয়েছে। ইউনুসের সরকারকেও দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে হটানো হবে। তিনি বলেন, এখানে বলে রাখি-আওয়ামীলীগ দেশের বৈধ সরকার ছিল। কিন্তু ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। দেশীবিদেশী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইউনুস গংরা আওয়ামীলীগ সরকারকে নাজেহাল করে। জনগণের জানমাল রক্ষার স্বার্থে আওয়ামীলীগ ক্ষমতা থেকে আপতদৃষ্টিতে সরে দাঁড়ায়। তিনি পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র কই?শেখ হাসিনা দেশের বাইরে গেলেন আর সরকার গঠন করে ফেললেন ইউনুস। ইউনুস যা করেছে এটা অবৈধ। আমরা মনে করি, আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার পুর্নবহাল করা হবে।
তিনি পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, আমরা বার বার বলছি, জননেত্রী শেখ হাসিনা বার বার বলছেন, দেশীবিদেশী ষড়যন্ত্রের কথা।দেশীবিদেশী ষড়যন্ত্র যে ছিল, এখন ফাঁস হচ্ছে। ২৯ মিলিয়ন ডলার চোরাই পথে কাদের হাতে আসে, কারা ৭.৬২ অস্ত্র ব্যবহার করে?জনগণের বুকে কারা অস্ত্র ধরে। এগুলো এখন দেশের জনগণ বুঝে গেছে। ইউনুসের পায়ের তলায় মাটি নেই আর। পালাবার পথ খুঁজছে।
তিনি আওয়ামীলীগ সরকরের আমলে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, পুঁজিবাদী ধারার রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নানা ঘাটতি থাকে। এই সব ফাঁকফোকর দিয়ে ষড়যন্ত্রকারিরা ঢুকে যায় সরকারের ভেতরে। দেশে এরা অশান্তি সৃষ্টি করে, জনপ্রিয় সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেষ্টা করে। আওয়ামীলীগকে এরকম সংকট ও ষড়যন্ত্রের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, আমি মনে করিনা, দল ও সরকারের অভ্যন্তরে দোষ ছিল না, ছিল। যার জন্যে ষড়যন্ত্রকারিরা মানুষকে প্রভাবিত করতে সুযোগ নিয়েছে। উসকে দিতে পেরেছে সাধারণ মানুষকে।
মানুষ ভুল বুঝতে পেরেছে। এখন ৮ মাসের মাথায় মানুষ বলছে, শেখ হাসিনার সরকার ভালো ছিল। রিকশা ড্রাইভার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখে একই কথা।
কেননা, শেখ হাসিনার সরকার জনকল্যাণমূলক অসংখ্য কাজ করেছে।গরীব ও অসহায় বৃদ্ধদের ভাতা প্রদান, গ্রামাঞ্চলে চিকিতসা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদেরকে ভাতা প্রদানসহ অসংখ্য জনবান্ধব ও জনহিতকর কাজের জন্য মানুষ সুখশান্তিতে ছিল। তাই মানুষ আবার আওয়ামীলীগকে চায়, শেখ হাসিনাকে চায়।
দেশের উন্নয়ন সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পদ্মাসেতু নির্মাণ করে অবহেলিত দক্ষিণবঙ্গকে উন্নয়ন ধারায় নিয়ে আসা,যমুনা বহুমুখি সেতু ও যমুনা রেলসেতু নির্মাণ করে উত্তরবঙ্গকে গতিশীল যোগাযোগের আওযতায় আনা, কর্ণফুলি ট্যানেল নির্মাণ, কক্সবাজার পর্যন্ত রেলস্থাপন. কক্সবাজার বিমানবন্দর আর্ন্তজাতিককরণসহ সমগ্র দেশে প্রতিটি জেলা শহর ও বিভাগীয় শহরকে চার লেন, ছয় লেন সড়কের আওতায় নিয়ে দেশের যুগান্তকারি পরিবর্তন শেখ হাসিনার কৃতিত্ব।এছাড়া শিল্পোন্নয়ন, বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য যা যা করণীয় শেখ হাসিনার সরকার তা করেছে। তাই, মানুষ আবার শেখ হাসিনার সরকার চায়।
তিনি বলেন, দেখেন- ইউনুস সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধকে, মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত মূল্যবোধকে অস্বীকার করার যে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, তার বিরুদ্ধে দেশবাসী দাঁড়াতে শুরু করে দিয়েছে। সে নিজে একজন দুর্নীতিবাজ্ । সাড়ে ৬শ কোটি টাকা মেরে দিয়েছে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদের। এটা কতো বড় অন্যায়। দুর্নীতিকে ধামাচাপা দিতেই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই ক্ষমতায় এসেছে। সে দেশপ্রেমিক নয়। একজন অদেশপ্রেমিককে দেশের জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনায় মানবে না। দেশের জন্যও শুভ নয়।
দেশের বিদ্যমান সংবিধান সংশোধন বা নয়াসংবিধান রচনা করার জন্য ইউনুস সরকার কমিশন গঠন করেছে। আপনি কী মনে করেন? তিনি নাকচ করে দিয়ে বলেন, সরকারই অবৈধ। এই সরকারের কোনে এখতিয়ার নেই সংবিধানে হাত দেওয়ার। যে কেউ কেন সবাই জানে, সংবিধান রচনা করে একমাত্র বৈধ সরকার। কোনো সংযোজন বিয়োজন করতে হলে নির্বাচিত পার্লামেন্টের একমাত্র ক্ষমতা। পার্লামেন্টই জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংবিধান সংশোধন করার এখতিয়ার রাখে। কিন্তু ইউনুস বোকার স্বর্গে বাস করছেন আর ইনিয়েবিনিয়ে সংবিধান সংশোধনের হাস্যকর কথা বলছেন, তার কমিশনও হাস্যকর কথা বলছে। তিনি বলেন, আমি জোর দিয়ে বলছি-জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া সংবিধানে হাত দেওয়ার সুযোগ নেই।
রাজনীতিক শফিকুর রহমান চৌধুরী ভব্যিষতে আরো আলাপের সুযোগ উন্মুক্ত রেখে বলেন, এ নিয়ে আরো কথা বলা যা্বে। তবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনে করে ও বিশ্বাস করে এবং আমি বিশ্বাস করি জননেত্রী শেখ হাসিনা-ই একমাত্র ব্যক্তি যিনি দেশের উ্ন্নয়নের নেতৃত্ব দিতে পারেন। ভবিষ্যত উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের তিনিই যোগ্য নেতা বা কর্ণধার। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আবার ক্ষমতায় যাবে, দেশকে উন্নত দেশ হিসাবে গড়ে তুলবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা হবে।