৫ আগস্ট ২০২৪—এই দিনটি শুধু একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে গভীর অন্ধকার নামিয়ে আনা এক রক্তাক্ত ষড়যন্ত্রের কালো অধ্যায়। দেশি-বিদেশি শক্তির যোগসাজশে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করা হয়েছিল। রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ অসংখ্য স্থাপনা ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছিল। তারা ভেবেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার অগ্নিশিখাকে নিভিয়ে দিতে পারবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ভেঙে চুরমার করতে পারবে।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আগুনে যতই পুড়ুক, ছাইয়ের ভেতর থেকে নতুন জীবনের জন্ম হয়। ফিনিক্স পাখির মতোই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আবারও জেগে উঠেছে। তাদের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে প্রতিজ্ঞা “বাংলাদেশ কোনোদিনও ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে জিম্মি হবে না!”
ষড়যন্ত্রের কালো হাত
বাংলাদেশকে দমিয়ে রাখতে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে। ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে সামরিক শাসন, জামাত-শিবিরের অগ্নিসন্ত্রাস সবই একটি উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে: বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ধ্বংস করা। আগস্ট ২০২৪ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ, যেখানে বিদেশি প্রভুদের মদদে দেশীয় দালালরা ক্ষমতার লোভে জাতিকে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঠেলে দিতে চেয়েছিল।
তারা ভেবেছিল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বহীন একটি বাংলাদেশকে দুর্বল করে তারা লুণ্ঠন করবে, ভাগ করে খাবে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে এই জাতি একদিন মুক্তিযুদ্ধ করেছে, বুকের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে।
জাগরণের অগ্নিগর্জন
আজ রাজধানীর বিজয় স্মরণী থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত জনসমুদ্রের ঢল প্রমাণ করেছে ষড়যন্ত্রের দেয়াল যত উঁচুই হোক না কেন, তা ভেঙে চুরমার করে ফেলতে সক্ষম বাঙালি জাতি। লক্ষ মানুষের কণ্ঠে একই স্লোগান
“বাংলাদেশ বাঁচাতে হবে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে!”
এই অগ্নিগর্জন কেবল একটি রাজনৈতিক দলের আওয়াজ নয়, এটি সমগ্র জাতির অদম্য ইচ্ছাশক্তি। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেও মানুষ জেগে উঠেছে, চোখে আগুন, হৃদয়ে প্রতিশোধের অঙ্গীকার, হাতে সংগ্রামের পতাকা।
বিশ্বাসঘাতকদের জবাব
আজ স্পষ্ট যারা ষড়যন্ত্র করেছে, যারা এই দেশে অশুভ শক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, তারা কোনোদিনও জাতির বন্ধু নয়। তারা হচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রেরই নতুন রূপ। এদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে, ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
যেমন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার থেকে জাতি পিছু হটেনি, তেমনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরাও চূড়ান্ত বিচারের মুখোমুখি হবেই। বাংলাদেশের মাটিতে বিশ্বাসঘাতকদের কোনো স্থান নেই।
আজকের মিছিলে জনতার শপথ
বাংলাদেশকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা যতই হোক, আমরা রুখে দেব।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধ্বংস করতে চাইলে প্রতিটি ঘরে ঘরে জেগে উঠবে নতুন সৈনিক।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা দেশকে এগিয়ে নেব, উন্নয়ন আর অগ্রগতির পথ রক্ষা করব।
এখন সময় দ্বিধা ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার, ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ খুলে দেওয়ার, আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে অটুট রাখার।
আজকের এই মুহূর্তে জাতিকে একটি বার্তা স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হবে—
“বাংলাদেশ কখনো পরাজিত হবে না!”
যত ষড়যন্ত্রই হোক, যত ধ্বংসযজ্ঞই হোক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে মুছে ফেলা যাবে না।
জেগে ওঠ বাংলাদেশ ষড়যন্ত্রের অন্ধকার ছিঁড়ে, অগ্নিগর্জনের পথে এগিয়ে যাও!
