।। জয় বাংলা প্রতিবেদন।।
মো. আবদুর রহমান সাবেক সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী। আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন ছাড়াও ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু। জয়বাংলা’র সাথে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তার আলাপচারিতা সংক্ষেপে পাঠকদের জন্যে তুলে ধরা হলো।
জয় বাংলা’র পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর প্রথমেই প্রশ্ন করা হয় আওয়ামীলীগ নির্বাচনে যাবে কিনা। সাবেক ঐমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগ নির্বাচনে যাবে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, আপনি জানেন, উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আবার ফিরিয়ে দিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ রচিত হলে, আওয়ামীলীগ নির্বাচনে যাবে।কিন্তু ‘মব জাস্টিজ’ জনগণ মেনে নেবে না। সুষ্ঠু পরিবেশ ও মানুষ শান্তিতে ভোটদানের সুযোগ না-পেলে কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হবে না। বৈরী কোন পরিবেশই নির্বাচনের জন্য কাম্য নয়।
এরপর প্রশ্ন করা হয় ‘আওয়ামীলীগ প্রকাশ্য রাজনীতিতে যাচ্ছে না কেন? তিনি উত্তর দেন, আওয়ামীলীগ প্রকাশ্য রাজনীতিতে আছে। কর্মসূচী দৃশ্যত না-দেখা গেলেও কৌশল হিসাবে নানা ফর্মে দলীয় কাজ চলছে।তিনি বলেন, দেখেন, দেশে রাজনীতির প্রথাগত পরিবেশ নেই। তাই রাজনীতির এই বাক বদলে আমাদের কর্মী ও নেতারা সক্রিয় থাকছে ভিন্নভাবে। স্যোসাল মিডিয়াসহ নানাক্ষেত্রে সোচ্চার রয়েছে তারা। রাজনীতি নিয়ে আওয়ামীলীগ নতুনভাবে ভাবছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধই সমুন্নত রেখে আমরা সক্রিয় আছি, এখানে কোন ছাড় নেই। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার যে রাজনীতির চর্চা চলছে, তাকে আমরা প্রত্যাখ্যান করেই জনগণের সাথে থাকার রাজনীতির মাঠে আছি।
তিনি সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা তুলে বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতন চলছে দেশে, সেটাকে রুখতে হবে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল সব সমম্প্রদায় মিলেমিশে বাস করার জন্য, একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ও সমাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খা ও মূল্যবোধ। এটাকে রক্ষা করতে হবে। কৌশল হিসাবে, আওয়ামীলীগকে রাজনৈতিক মাঠে সাময়িকভাবে নিরব দেখা যাচ্ছে। তবে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা সংগঠিত আছে এবং বৃহৎ আন্দেলনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
দেশে ‘মব জাস্টিজ’-এর জন্য দায়ী কে? তিনি বলেন, দেশে একটি মেটিকুলাসলি ডিজাইন করে দেশী্বিদেশী ষড়যন্ত্রকারিরা এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল,যার কন্টিনিউয়াস পরিস্থিতি এখনও চলছে। এর জন্য দায়ী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় এসেছে, ক্ষমতায় আছে, তারা। শুধু তরুণ সমাজকে বা শিক্ষার্থীদেরকে নয়, সাধারণ মানুষকেও তারা আইন হাতে তুলে নেওয়ার পথে ধাবিত করেছে। অস্ত্রসহ বেআইনি উপাদান হাতে দিয়েছে।
দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া পুলিশ প্রশাসনকে ধ্বংশ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের টোপে পড়েছিল সেনাবাহিনির একটি অংশ, পুলিশ, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, আইনজীবী, সিভিল প্রশাসনসহ ব্যবসায়ীরাও। এরা এখন ভুল বুঝতে পেরেছে। কিন্তু সময় অনুকুলে নয়, চলে গেছে নাগালের বাইরে। মেটিকুলাস ডিজাইনের খপ্পরে যারা পড়েছিল, তারাই দায়ী বর্তমান দৃ:সহ পরিস্থিতির। তিনি শেখ হাসিনার কথা বলতে গিয়ে বলেন, জননেত্রী বার বার সতর্ক করিয়ে দিয়েছেন দেশবাসীকে। বিদেশী চক্রান্তকে চিহ্নিত করে বলেছেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ একটি মহলকে দিয়ে দিতে চাপ আসছে, আমি দেশ বিক্রি করতে পারবো না।একটি মহল তা উড়িয়ে দিয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিল।
আওয়ামীলীগ নেতারা দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গেলেন কেন? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছিল, এই পরিস্থিতিতে তো প্রথম কাজ হলো প্রাণে বাঁচা। আগুনে ঝাঁপ দেয়া বীরত্ব নয়। নিজেকে বাঁচিয়ে তারপরে ঘুরে দাঁড়ানো। আমরা এ কাজটা করেছি। এই ‘মবজাস্টিজ‘এর কথা আবার ঘুরে আসে। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, এটা কী কোন রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল?‘মবজাস্টিজ’ ছিল শুরু থেকেই। যা বিদেশী চক্রান্ত। ‘চক্রান্ত’ কোন সময়ই সুস্থ রাজনীতি নয় ।চক্রান্তকে মোকাবিলা সুস্থ রাজনীতি দিয়ে করা যায় না। আওয়ামীলীগ সরকার যে উন্নয়নের ধারা তৈরি করেছিল, সেটাই আমরা রাজনৈতিক জবাব হিসাবে মনে করি।
আমাদের সেনাবাহিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি দেশপ্রেমিক বাহিনি। তারা কেন সরকারের পেছন থেকে বাহ্যত সরে গেল। তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বলেন, এটা এখন প্রকাশিত সত্য। ঐ যে বিদেশী চক্রান্ত সম্পর্কে আগে বললাম, সেটির একটি অংশ জাতিসংঘ ‘শান্তিমিশন’ থেকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনিকে বাদ দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল, যাতে আন্দোলনে হস্তক্ষেপ না-করে। জাতিসংঘ থেকে ভুল বুঝানো হয়েছিল। এটাই ট্রাম কার্ড হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।
বর্তমনে দেশে মৌলবাদের উত্থান ঘটা্ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। আওয়ামীলীগ সরকারের নানান বিষয়ে ইসলামী দলগুলোর সাথে ‘সমজোতা’ করা কি মৌলবাদের উত্থান ত্বরান্বিত করেনি? তিনি বলেন, সমজোতা কখনো আওয়ামীলীগ সরকার করেনি। ইসলামী জঙ্গিদের রুখতে সরকার সব সময় সোচ্চার ছিল। বিভিন্ন অপরাধে এরা দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে জেলে ছিল অনেকেই। এদের ইউনুস সরকার জেল থেকে ছেড়ে দিয়ে দেশকে জঙ্গী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করেছে।
প্রশ্ন ছিল-কথিত আছে, হেফাজতে ইসলামের আবদারে পাঠপুস্তক সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া কওমী সনদের স্বীকৃতি একটি মহলবিশেষকে উতসাহিত করেছে কি মনে করেন না? তিনি নাকচ করে দিয়ে বলেন, দেশের ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার স্বীকৃতি দিয়ে মূলধারায় আমাদের বিশাল একটি জনগোষ্ঠীকে অর্ন্তভুক্ত করা মানে এই নয় যে, মৌলবাদকে মদদ দেয়া। বরং এতে আওয়ামীলীগ সরকার এ ধরণের কোনো অপচেষ্টাকে ভেঙে দিয়েছে।
শেষ প্রশ্ন ছিল, আপনারা বিদেশে আছেন, ইউনুস সরকারের অপশাসন ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক পরিসরে আপনারা লবিং করেন না কেন? তিনি বলেন, লবিং হচ্ছে, দৃশ্যত দেখা যাচ্ছে না। সম্পুরক প্রশ্ন ছিল একাত্তরে আমাদের দেশের মানুষেরা প্রবাসে লবিং করেছিলেন বিশ্বজনমত সৃষ্টিতে। আপনারাতো সেরকম কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।তিনি উত্তর দেন- এখন্ও সময় আসেনি।