যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ‘বিপ্লব’ ঘটানোর প্রতিশ্রুতি এসেছে বাজেট বক্তৃতায়, কিন্তু নেই—কবে, কিভাবে, কারা করবে তার কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ সোমবার সংসদে বাজেট বক্তৃতায় বলেন, “আমাদের সরকার টেকসই, নিরাপদ, ব্যয় সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিদ্যমান ‘রোড মাস্টার প্ল্যান ২০০৯’ হালনাগাদকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
রেল খাতেও তিনি তুলে ধরেন বড় পরিকল্পনার কথা।
তার ভাষায়, “৩০ বছর মেয়াদি রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী রেলওয়ে ডাবল লাইনের সম্প্রসারণ, গেজ একীভূতকরণ, আধুনিক সিগন্যালিং, সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে রেল সংযোগ, উন্নতমানের ইঞ্জিন সংযোজন এবং বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
এই সব বক্তব্যে ‘উদ্যোগ’, ‘প্রবর্তন’, ‘প্রতিশ্রুতি’ শব্দ থাকলেও নেই—কোন প্রকল্পে কখন কাজ শুরু হবে, কত টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, কারা বাস্তবায়ন করবে বা কবে শেষ হবে সেই পরিকল্পনা।
অর্থাৎ কেবল পরিকল্পনার ঘোষণা আছে, বাস্তবতার মাটি ছুঁয়েছে এমন কিছু নেই।
পরিবহন পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জিনিয়ার নাসির মাহমুদ বলেন,
“পরিকল্পনা শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু বাস্তবায়নের রূপরেখা না থাকলে সেটি বাস্তবতা থেকে ছিটকে যায়।”
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপোর্ট ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের বিশ্লেষক ফারজানা কবির বললেন,
“এই বাজেটে ভবিষ্যতের কথা আছে, কিন্তু বর্তমান নেই। কেবল স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, কিন্তু সেই স্বপ্ন ছুঁতে কোনো সিঁড়ি রাখা হয়নি।”
তাদের মতে, বাজেট বক্তৃতায় শুধু কাগুজে ঘোষণা দিলে তা জনগণের ভরসা পায় না।
প্রয়োজন প্রকল্পের নাম, বাজেট বরাদ্দ, সময়সীমা ও জবাবদিহিতার কাঠামো।
তুলনামূলকভাবে, আগের শেখ হাসিনার সরকার বড় প্রকল্পগুলো নিয়ে যখন বাজেট ঘোষণা করেছিল, তখন প্রকল্পের সময়সীমা, বাজেট কাঠামো, বাস্তবায়ন পর্যায়—সব কিছু স্পষ্ট ছিল।
পদ্মা সেতু, যমুনা রেল সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল কিংবা মেট্রোরেল—সব প্রকল্পেই কাজ শুরু হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। এবং তার সুফল এখন মানুষ হাতেকলমে পাচ্ছে।
কিন্তু বর্তমান মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার কিছুই শুরু করতে পারেনি।
বরং একের পর এক প্রকল্প ‘রিভিউ’ কিংবা ‘স্থগিত’-এর খাতায় ঢুকে যাচ্ছে।
মেট্রোরেলের নতুন রুট, ঢাকা-পায়রা রেল সংযোগ, আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়নসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাদ গেছে এবারের বাজেট খসড়া থেকেই।
ফলে সরকার বলছে ‘উন্নয়ন হবে’, অথচ কবে, কীভাবে, কারা করবে—সে প্রশ্নে যেন কেউই খুব বেশি মাথা ঘামাতে চায় না।
