বড়পুকুরিয়ায় তিনটি ইউনিট, সক্ষমতা মোট ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াটের দুই নম্বর ইউনিট আগেই অচল হয়েছে। বিএনপির সেটা আর চালু করেনি কোনো এক অজানা কারণে। এবার সোমবার বসে গেল এক নম্বর ইউনিট, মঙ্গলবার ভোরে তিন নম্বর। এই দুটিই ছিল গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার একমাত্র ভরসা। ফল হলো, কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে এখন এক মেগাওয়াটও যাচ্ছে না।
একটা কেন্দ্রের দুটি ইউনিট টানা দুই দিনে বিকল হয়, আর কর্তৃপক্ষের মুখে আশ্বাসটা কী? “দ্রুতই মেরামত শেষে উৎপাদন শুরুর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” কবে, কত দিনে, তার কোনো উত্তর নেই। মঙ্গলবার রাত ১১টা পর্যন্ত ত্রুটিই ধরা যায়নি। মেরামতে নেমেছেন চীনা ঠিকাদার হারবিন ইন্টারন্যাশনালের প্রকৌশলীরা। অর্থাৎ নিজের দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র আবার চালু হবে কি না, তা নির্ভর করছে বিদেশি ঠিকাদারের লোকজনের ওপর।
উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে। যে দুটি ইউনিটের বিদ্যুতের ওপর ভর করে এলাকাটা চলত, তা হঠাৎ গায়েব। এই সংকটে ধান, সেচ, কলকারখানা, ছোট ব্যবসা, পড়াশোনা, সবকিছুই চাপে পড়বে। অথচ বিএনপির অবৈধ দখলদার তথাকথিত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো জরুরি বিকল্প পরিকল্পনার কথা শোনা যায়নি।
অচল ইউনিট আজও অচল, বাকি দুটিও ঠুনকো, আর দায়িত্বে যাঁরা আছেন তাঁদের হাতে সেই পুরোনো গৎবাঁধা বিবৃতি ছাড়া আর কিছু নেই জনগণকে দেয়ার মতো। ২০০১-০৬ সালে বিএনপির শাসনে লোডশেডিং ছিল মানুষের নিত্যসঙ্গী। ২০২৬ সালে ক্ষমতায় ফিরে একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। আলো নেভার এই গল্প তাদের কাছে নতুন কিছু তো আর না!
