বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক হিসাবে এক অর্থবছরে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যে পড়েছে। জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭ %থেকে উঠে গেছে ২২.৫%-এ। অর্থাৎ প্রতি পাঁচজনের বেশি মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে। এরা আগে থেকে গরিব ছিল না, বেশির ভাগই ছিল খেটে খাওয়া নিম্নমধ্যবিত্ত, কাজ আর আয় হারিয়ে যারা সীমার নিচে ঠেলে পড়েছে।
কারখানায় গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি নেমে প্রায় ২%-এ। বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে, সরকারি বিনিয়োগও কমেছে, রফতানি কমেছে ৪.৮%। কাজ হারিয়ে অনেক নারী শ্রমবাজার ছেড়ে বসে গেছেন। মূল্যস্ফীতি একবিন্দুও কমেনি, মজুরিও বাড়েনি।
সবচেয়ে বাজে অবস্থা ব্যাংক খাতে। ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৩০.৬%, জুনে সেটা ৩৩.২%। সাত মাসেই প্রায় আড়াই পয়েন্টের লাফ। একই জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমেছে ৪.৫%-এ, যা ৩৩ বছরে সর্বনিম্ন। আর সরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে ৩০.৪%। ব্যাংকের টাকা যাচ্ছে সরকারের হাতে, কারখানা আর নতুন চাকরির জন্য পড়ে থাকছে ফাঁকা ভাঁড়ার।
এদিকে রাজস্ব আয় জিডিপির মাত্র ৮.৩%, বিশ্বের অন্যতম নিচু। ঘাটতি বেড়ে ৩.৯%। আয় নেই, ঋণের জন্য ব্যাংকই ভরসা, ফলে বেসরকারি খাত আরও চাপে। আর যাদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা দরকার, সেই সবচেয়ে গরিব পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক কোনো সামাজিক সুরক্ষার আওতাতেই নেই।
ভর্তুকি আর ভাতার নামে এত টাকা খরচ হয়, তবু গরিবের অর্ধেক বাদ পড়ে কেন? আর ব্যাংকের টাকা সরকার মেরে দিলে চাকরি তৈরি হবে কোত্থেকে
