‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিতে সপ্তাহের শেষদিনে যানজটের বদলে দেখা গেল ভিন্ন ঢাকা।জনমানবশূন্য এক ঢাকা।
জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থনে কার্যত অচল রাজধানী। আওয়ামী লীগ ঘোষিত ‘লকডাউন’ আহ্বানে রাজধানীবাসীর নীরব সাড়া কার্যত অচল করে দিয়েছে ঢাকাকে।
বৃহস্পতিবার দিনের শুরু থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ছিল ফাঁকা, গণপরিবহন সীমিত, আর অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল কম। সাধারণত রাজধানীতে তীব্র যানজট দেখা গেলেও আজকের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন—রাস্তায় নেই যানজট, অনেক জায়গা একেবারেই ফাঁকা।
সচিবালয়, প্রেস ক্লাব, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, শাহবাগ, ফার্মগেট, মহাখালী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক কম যান চলাচল।
ধানমন্ডি থেকে প্রেস ক্লাবগামী রিকশাচালক মো. দেলোয়ার বলেন, “আজ ১৫ মিনিটে পৌঁছে গেছি, কোনো সিগন্যালে দাঁড়াতে হয়নি। বৃহস্পতিবারের দিনে এমনটা কখনো দেখি না।”
এদিন সকাল থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীকে টহল দিতে দেখা গেছে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে ছিল বিজিবির অবস্থান। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে বা যানবাহনে সন্দেহ হলে তল্লাশি চালানো হয়। পথচারীদের মোবাইলও তল্লাশি করে দেখা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাংলামোটরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মো. বেল্লাল। তিনি বলেন, “সকাল থেকে বাস খুব কম। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি, পাচ্ছি না।” সচিবালয়ের সামনে উত্তরমুখী যাত্রী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “রাস্তায় আজ বাসের সংখ্যা অন্য দিনের চেয়ে অনেক কম।”
শিক্ষাভবন মোড়ে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্যকে দেখা গেছে নিরাপত্তায়। পুরনো পল্টন ও গুলিস্তানের জিপিও মোড়েও ছিল পুলিশের কড়া অবস্থান। হাইকোর্ট এলাকায় শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল, ট্রাইব্যুনালের সামনে অবস্থান নেয় র্যাব ও সেনা সদস্যরা।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “রাজধানীর সর্বত্র বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে কড়া নজরদারি চলছে।”
বিজিবির সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাজধানীর ১১ স্থানে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
