হামিদ মোহাম্মদ
‘এ সিজন অব বাংলা ড্রামা’ আয়না আর্টসের দর্শক নন্দিত ‘ক্রিসালিস’ নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আয়না আটর্স পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্টস সেন্টারের থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ করে এ নাটকটি। দুটি শোতে বিপুল সংখ্যক দর্শকস্রোতা উপভোগ করেন সাইকোলজিক্যাল এ ড্রামাটি। মানব জীবনের নানা বাক বদলে মনোবিকলায়নের ঘোরলাগা জীবন, সংকট এবং শেষ পর্যন্ত সংকট থেকে বেরিয়ে আসার বৈজ্ঞানিক সমাধান খুঁজে পাওয়া,নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানিয়ে নেওয়ার সূত্র আবিষ্কার,জীবনের মূল্য উপপাদ্যকে সন্ধান,সমাজ বির্নিমাণের বার্তাবাহী নাটকটি ভিন্নভাবে উপভোগ করেন নাট্যামোদীমহল। কমেডী ও হাস্যরসের সংমিশ্রনে কঠিন গল্পকেও সাবলীল ও মনোমুগ্ধকর করা ছিল অভিনয়শিল্পীদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর।

নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন নাট্যকার লেখক জেসমীন চৌধুরী। ব্রিটেনের ম্যানচেস্টার শহরে বাঙালি নাট্যচর্চা প্রতিষ্ঠান আয়না আর্টস দীর্ঘাদিন যাবত নাটক মঞ্চস্থ করে আসছে। ‘এ সিজন অব বাংলা ড্রামা’র এবারে ছিল তাদের এ ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা। অভিনয় করেন জেসমীন চৌধুরী নিজে এবং অপু চৌধুরীসহ চারজন শিশুশিল্পী এবং এক ঝাঁক তরুণী তরুণী। সঙ্গীত সহযোগে নাটকটি অনবদ্য উপস্থাপনা হিসাবে দর্শকনন্দিত বলা যায়। ‘মেনোপজ’ একজন নারীর জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায়। এটি শরীরের ওপর এবং মনের ওপর নানাভাবে প্রভাব ফেলে। তাই এ বিষয়ে সমস্যা কি হতে পারে এবং সচেতনতা ও করণীয়ই ‘Chrysalis’ নাটকে তুলে ধরা হয়েছে।
সাধারণতঃ গরম লাগা, ঘুমের সমস্যা, মেজাজের পরিবর্তন, স্মৃতি এবং মনোযোগের সমস্যা, পেশী ও জয়েন্টে ব্যথার সমস্যা হয়ে থাকে। নাট্যকার এই সমস্যাগুলো নারীর জীবনে কি প্রভাব ফেলে এবং পুরুষেরও একই সমস্যা হলে তাঁদের কি অবস্থা হতো, তা হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
এই বিষয়ে নাট্যকার গাইনী বিশেষজ্ঞের ভূমিকায় সমাধানের কিছু পরামর্শ দেন। তা হলো: নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, হাঁটার অভ্যাস, যোগব্যায়াম করতে হবে। বসে বসে না কাটিয়ে শারীরিক চলাফেরা সচল রাখতে হবে, ভারসাম্যপূর্ণ পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপি নিতে হবে।
সঙ্গীত সহযোগে নাটকটি অনবদ্য উপস্থাপনা হিসাবে দর্শকনন্দিত হয়েছে। হলভর্তি দর্শক করতালির মাধ্যমে নাটক উপভোগ করেছেন। সকলে ভাল অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে শিশু শিল্পী মুয়াজ হোসেন দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। আরো যারা অভিনয় করেছেন তাঁরা হলেন মাইশা ফজল, আরিশা ফজল, ফারিয়া সিদ্দিকী, জয়তী পাল, মুকাররাম হোসাইন, মুরাদ চৌধুরী, গুলশান আরা লুনা, মার্টিনা কুজনোভা, মোহাম্মদ ফজল, মৌসুমী সেন গুপ্ত, রফিকুর রহমান চৌধুরী, অপু চৌধুরী ও জেসমিন চৌধুরী।
নাটক মঞ্চায়নের পর নাটক সম্পর্কে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর নাট্যকার জেসমিন চৌধুরী চমৎকারভাবে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টারে অপু চৌধুরী ও জেসমিন চৌধুরী ‘আয়না আর্টস প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের সাথে সহযোগিতায় ছিল ‘পূর্বনাট’ ও মুরাদ খান। তাদের মঞ্ছস্থ নাটকগুলো হলো ‘মায়া’জ হানিমুনস’ রচনা জেসমিন চৌধুরী। ‘মুখোশ’ রচনা- এরিয়েল ডর্ফম্যান, অনুবাদ সৈয়দ শামসুল হক। ‘জেরা’ রচনা ফরিদ কামালী। ‘ওড়না’ রচনা জেসমিন চৌধুরী। ‘টেলিগ্রাম’ রচনা জেসমিন চৌধুরী। ‘এক্সট্রা মেরিটাল’ রচনা জেসমিন চৌধুরীও ‘ঘূর্ণি’ রচনা করেছেন জেসমিন চৌধুরী। অন্য সবগুলো নাটকের নির্দেশনায় ছিলেন অপু চৌধুরী। গতবছর নাটোৎসবে প্রদর্শিত ‘ঘূর্ণির’ নির্দেশনা দিয়েছেন যৌথভাবে অপু ও জেসমিন চৌধুরী।
