আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সাউথ এশিয়া ডেমোক্র্যাটিক ফোরাম (এসএডিএফ) বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।
ইউরোপভিত্তিক এই সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের আদালত কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড “আইনের শাসনের ওপর গভীর আঘাত” এবং একটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায়।
গত ১৭ই নভেম্বর প্রকাশিত বিবৃতিতে এসএডিএফ জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) যেভাবে রায় দিয়েছে তা উদ্বেগজনক।
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। ১৯৭১ সালের গণহত্যার অভিযোগে বিচারের জন্য গঠিত এই ট্রাইব্যুনালকে বর্তমান অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার “রাজনৈতিক অস্ত্রে” পরিণত করেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
এসএডিএফ বলছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে—যেসব অভিযোগ রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত—তা আইসিটির মূল এখতিয়ারের বাইরে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন অপরাধ বিচারই ছিল এই ট্রাইব্যুনালের একমাত্র কাজ। এভাবে ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করা “ন্যায়বিচার ও ১৯৭১ সালের শহিদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা” বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতার পর অন্তর্বর্তী সরকার বিচারব্যবস্থায় বড় রদবদল আনে এবং আইসিটিতে নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের বসায়।
এসএডিএফ আরও জানায়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, কিন্তু তাঁকে বিচার শুরু হওয়ার কথা যথাযথভাবে জানানো হয়নি। তাঁর আইনজীবীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সংস্থাটি আরও অভিযোগ করে যে, বিচার শুরু হওয়ার আগেই সরকারপক্ষের প্রকাশ্য মন্তব্যে রায়ের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যা নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপের স্পষ্ট প্রমাণ।
এসএডিএফ মনে করে, এই রায় আসলে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করার কৌশল, বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে।
সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, দলটির নেত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া এবং দলটিকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতের নির্বাচন অর্থহীন হয়ে যাবে এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন “প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
এই নিন্দা বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন তাপস কান্তি বল, যিনি আগে আইসিটিরই একজন প্রসিকিউটর ছিলেন এবং বর্তমানে এসএডিএফ -এর সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট।
এসএডিএফ জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—এই রায় প্রত্যাখ্যান করতে, বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের দাবি তুলতে এবং সরকারের বিচারব্যবস্থা ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিতে।
এখন পর্যন্ত ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসন এসএডিএফ -এর এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পরিস্থিতি এখনো আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
