ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের সময় শারীরিক হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন ৮৯ শতাংশ সাংবাদিক। পাশাপাশি নারী সাংবাদিকদের মধ্যে অর্ধেক যৌন হয়রানি এবং ৪০ শতাংশ যৌন সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইট–এর এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ‘হাই রিস্ক, লো প্রিপেয়ার্ডনেস: জার্নালিস্ট সেফটি ইন ২০২৬ ইলেকশন’ শিরোনামে এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়। এতে ১৯টি জেলার ২০১ জন সাংবাদিকের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি ১০টি গভীর সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের ৭৬ শতাংশ মৌখিক হয়রানি এবং ৭১ শতাংশ ভয়ভীতি প্রদর্শনকে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ৯০ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা মনে করেন, রাজনৈতিক দল ও তাদের কর্মীদের কাছ থেকেই শারীরিক নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি আসে। নারী ও আঞ্চলিক সাংবাদিকেরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকেও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।
সংবাদ সংগ্রহের সময় শুধু শারীরিক নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন সাংবাদিকরা। ৭৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের বা তাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। ৬৫ শতাংশ হ্যাকিংকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। নারী সাংবাদিকরা অনলাইন হয়রানি ও নজরদারি নিয়ে বেশি উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। অর্ধেকের বেশি উত্তরদাতা মনে করেন, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে মানহানিকর অপপ্রচার চালানো হতে পারে।
সাংবাদিকদের মতে, রাজনৈতিক লেবেলিং, গণমাধ্যমের প্রতি আস্থাহীনতা, উগ্রবাদ, গণপিটুনি, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ছড়ানো অপতথ্য এবারের নির্বাচনে ঝুঁকি বাড়ার প্রধান কারণ।
জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ সাংবাদিক জানিয়েছেন, এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় তাদের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কাঠামো বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অভাব রয়েছে। মাত্র ২৪ শতাংশ সাংবাদিক জানিয়েছেন, তারা কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ৭৭ শতাংশের সংবাদমাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা নীতিমালা নেই।
প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত শারীরিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, সুস্পষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, জেন্ডার–সংবেদনশীল সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি ও আইনি সহায়তা প্রাপ্তির সুযোগ জোরদার করা।
গোলটেবিল আলোচনায় ঢাকা ট্রিবিউন, সমকাল, টাইমস অব বাংলাদেশ, এএফপি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, নিউ এজ, আরটিভি, যমুনা টেলিভিশন ও একাত্তর টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউটের এশিয়া অঞ্চলের প্রকল্প সমন্বয়ক মারিয়া পিটারসন।
