অন্তর্বতী সরকারের পদত্যাগ করা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে প্রতিবাদ চলছে। ক্রীড়াপ্রেমী সাধারণ জনতার ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা আসিফের অবৈধ সম্পদের হিসাব চেয়েছেন। আসিফকে আইনের আওয়াত আনার দাবিও তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিসিবির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন একদল সমর্থক। তারা আসিফের শাস্তি দাবি করেন। বিপুল অবৈধ সম্পদের হিসাব চান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একজন বলেন, ‘আসিফ যে ছিল তার দুর্নীতির কর্মকান্ডগুলো এন্টি করাপশন ইউনিট থেকে খতিয়ে দেখতে হবে। তার অবৈধ সম্পদের হিসাব দিতে হবে।’
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সহিংস আন্দোলনে নেতৃত্বে ছিলেন আসিফ। সরকার পতনের পর ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন এই তরুণ। ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হন আসিফ।
গত বছর দেড়েক তার বিরুদ্ধে উঠে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ। আসিফের এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের একাউন্টে পাওয়া যায় ৩০০ কোটি টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশনে এই ব্যাপারে দায়ের করা হয়েছে অভিযোগ। পরে মোয়াজ্জেমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও আসিফ থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।
বিসিবির নির্বাচনে প্রভাব খাটিয়ে নিজস্ব লোক বসাতেও চালিকাশক্তি ছিলেন আসিফ। আসিফের প্রেস সচিব মাহফুজুল আলম সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিলা কিনেছেন বলেও খবর বেরিয়েছে গত কয়েক মাসে। এই টাকার উৎস কি এই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
এদিকে কুমিল্লায় নিজের এলাকায় একটি পরিবারের একাধিক সদস্যকে খুন করে জায়গা দখল করারও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। আসিফের জন্য রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনে একটি কক্ষ বরাদ্দ থাকত। সেই হোটেলের প্রধান নির্বাহী শাখাওয়াত হোসেনকে বিসিবির পরিচালক বানিয়েছেন আসিফ। স্মরণকালের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত নির্বাচনে বিসিবিতে নিজের লোক বসান তিনি। সেই লোকেরাই নির্মাণাধীন পূর্বাচল স্টেডিয়ামের ৩০ কোটি টাকার মাটি কদিন আগে গায়েব করে দিয়েছেন। পূর্বাচলে আধুনিক স্টেডিয়ামের কাজ শুরু করেছিলো বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। সেই কাজও তার কারণে থমকে আছে।
