রয়টার্স এর প্রতিবেদন
নয়াদিল্লি, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তিনি চরমভাবে অপমানিত ও কোণঠাসা বোধ করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পরপরই তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দিতে চান।
রয়টার্সকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে ৭৫ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি বলেন,
“আমি এখান থেকে যেতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে বেরিয়ে যেতে চাই।”
সাথে তিনি এটাও যোগ করেন, “নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে যাব।”
শেখ হাসিনার মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া শাহাবুদ্দিন বলেন, মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে চলছে:
প্রায় সাত মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস তাঁর সঙ্গে দেখা করেনি
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে
গত সেপ্টেম্বরে হঠাৎ এক রাতের মধ্যে বিশ্বের সব দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেট থেকে তাঁর ছবি নামিয়ে ফেলা হয়
এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি রয়টার্সকে বলেনঃ
“সব দূতাবাসে রাষ্ট্রপতির ছবি থাকত। হঠাৎ এক রাতে সব সরিয়ে ফেলা হলো। জনগণের কাছে ভুল বার্তা গেছে যে, রাষ্ট্রপতিকেও সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমার খুব অপমান লেগেছে,” বলেন শাহাবুদ্দিন।
তিনি এ বিষয়ে ইউনুসকে চিঠিও লিখেছেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
“আমার কণ্ঠ রোধ করে দেওয়া হয়েছে,” যোগ করেন তিনি।
ইউনুসের প্রেস উইং ও উপদেষ্টাদের কাছেও রয়টার্স প্রতিক্রিয়া চেয়ে প্রশ্ন পাঠিয়েছে। কিন্তু কেউই পাঠানো প্রশ্নের জবাব দেননি।
সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ
রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বিক্ষোভের মধ্যে তাঁর সেনারা নিরপেক্ষ থাকায় প্রবীন মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ এর জীবন রক্ষা পায়। শাহাবুদ্দিন বলেন, জামান স্পষ্ট জানিয়েছেন ক্ষমতা দখলের কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। বাংলাদেশে সামরিক শাসনের ইতিহাস আছে, কিন্তু জামান বলেছেন তিনি গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে চান।
শাহাবুদ্দিন বলেন, শুরুতে কিছু ছাত্র বিক্ষোভকারী তাঁর পদত্যাগ দাবি করলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কোনো রাজনৈতিক দল তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেনি।
জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়ার বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে রয়েছে। আওয়ামী লীগকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা নির্বাসিত হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন কি না – এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে শাহাবুদ্দিন বলেন, “রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে আমি কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমি স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছি।”
