কবির য়াহমদ
অন্তর্বর্তীকালীন শাসকের কারাগারে এরইমধ্য অন্তরীণ অগণন লেখক, সাংবাদিক, কবি, বুদ্ধিজীবী। আনিস আলমগীরকে তুলে নেওয়া তাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা ধারাবাহিকতা। এটা ন্যক্কারজনক, এটা অনভিপ্রেত, এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন, এটা বাকস্বাধীনতা টুঁটি চেপে ধরার নিকৃষ্ট উদাহরণ।
এরমাধ্যমে সরকার কী পাবে? ইতিবাচক কিছু? মোটেও না। সরকার এরমাধ্যমে মববাজদের দাবি মেনেছে।
আমরা দেখছি মানবতার কী নিদারুণ পরিণতি। দেশ মধ্যযুগে নিপতিত। আইন-আদালত, রীতিনীতি, সামাজিক শৃঙ্খলার সবকিছুর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দর্শক আমরা হচ্ছি। আমরা একটা আত্মমর্যাদাশীল দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত হতে দেখছি। এখানে কারও কোন স্বাধীনতা নেই। স্বাধীনতা আছে কেবলই মববাজদের; স্বাধীনতা আছে কেবলই অন্ধকারের আততায়ীদের। এখানে প্রকাশ্যে অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়; অন্যের ওপর জবরদস্তি করা হয়, এবং এটাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে সরকার, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলো।
আনিস আলমগীর সাংবাদিক, বিশ্লেষক। একজন বিশ্লেষকের কাজ ঘটনার নির্মোহ বিশ্লেষণ। তিনি তার মতো সেটা করতেন, এবং নির্ভীক ছিলেন এ ক্ষেত্রে। এটাই কাল হলো। কারণ এখন যে সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায়, এখন তার যে ফ্যানাটিক উগ্র পথভ্রষ্ট সমর্থকগোষ্ঠী, এরা গায়ের জোরে সবকিছু করতে চায়। করছেও।
আনিস আলমগীর ‘দালাল’ নন। তিনি বিশ্লেষক। তাই তার ওপর ‘জুলুম’ শুরু হয়েছে। এই জুলুমের শুরু মূলত ‘সরকারি অ্যাক্টিভিস্ট’ হাদীর ওপর আক্রমণের ব্যর্থতা আড়ালের অভিপ্রায়ে।
জুলুমের শুরু যখন হয়, তখন এর নিশ্চয় শেষও আছে। এটাই তো প্রকৃতির ধর্ম। প্রকৃতি তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতেই একটা সময়ে ঠিকই জুলুমের অবসান করে থাকে।
আনিস আলমগীরকে তুলে নিয়ে গিয়ে, তাকে আরও বড় করা হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি পৌঁছে গেছেন দেশের কোটি-মানুষের দুয়ারে। তাকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে দেশব্যাপী। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতেন বলে সরকার তাকে ‘দমন’ করেছে—এমন একটা ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি হয়েছে। দালালশ্রেণির ‘জালিম’ ছাড়া এই ন্যারেটিভকে কেউ ‘হাততালি’ দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছে না, এটা বরং সরকারের ‘জুলুম’ রূপে প্রতিপন্ন হচ্ছে।
কাল সন্ধ্যায় আনিস আলমগীরকে তুলে নিয়ে গেছে একটা বাহিনী। এই ১৬/১৭ ঘণ্টায় দেশের তত লোক তাকে চেনে, তার অর্ধেকের কম লোকও নাম জানে না ইউনুস-সরকারের উপদেষ্টাদের। এটা মূলত মজলুমের শক্তি।
‘মজলুম সাংবাদিক’ আনিস আলমগীরকে চেনে এখন সারাদেশ। বিশ্বও চিনছে এখন। যখন বৈশ্বিক সংগঠনগুলো তার মুক্তির দাবিতে বিবৃতি দেবে, তখন তোমরা মুখ দেখাবে কী করে?
