নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনাসভায় বাংলাদেশ বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোয় কর্মসূচি বর্জন করেছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মঞ্চের চেয়ারে না বসিয়ে জামায়াত নেতাদের বসানো হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ার দেয়া হয় দর্শক সারিতে।
পরে তারা মোহনগঞ্জ শহরের স্টেশন রোডে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হলরুমে তাৎক্ষণিকভাবে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা জামায়াতকে রাজাকার, আল-বদরদের সংগঠন উল্লেখ করে তাদেরকে বর্জনের আহ্বান জানান।
আজ ১৪ই ডিসেম্বর, রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর সকাল ১১টার দিকে উপজেলা অডিটরিয়ামে প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। যেখানে জামায়াতকে প্রাধান্য দেয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদে অনুষ্টান বর্জন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মঞ্চে স্থান দেওয়ায় তারা আলোচনা সভা বর্জন করতে বাধ্য হয়েছেন।
তারা বলেন, যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে একই মঞ্চে বসা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা যাবে না। এরা আমাদের বুদ্ধিজীবী হত্যায় জড়িত।
মুক্তিযোদ্ধারা আরও জানান, আলোচনা সভার আগে তারা উপজেলা প্রশাসনকে জামায়াতের নেতাদের আমন্ত্রণ না জানানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অনুরোধ করেছিলেন। তবে সেই অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা সভাস্থলে দেরিতে পৌঁছানোর কারণে তাদের জন্য আলাদা চেয়ার রাখা হয়েছিল। তবে তারা সেখানে না বসে ব্যস্ততার কথা জানিয়ে হলরুম ত্যাগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছুল হক মাহবুব এবং মোহনগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী চৌধুরী (হীরা)।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক আব্দুল খালেক, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান, সদস্যসচিব গোলাম মোস্তফাসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা।
