ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদীর প্রথম জানাজা সিঙ্গাপুরে হওয়ার কথা থাকলেও তার ‘উগ্রবাদের সাথে সম্পৃক্ততা’ থাকার কারণ দেখিয়ে অনুমতি দেয়নি সিঙ্গাপুর সরকার। সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাই কমিশন শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে জানানো হয়েছিল, সিঙ্গাপুরের দ্য আঙ্গুলিয়া মসজিদে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টায় ওসমান হাদীর জানাজা হবে। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে হাই কমিশনের পোস্টে বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় তার জানাজা সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এ জন্য হাইকমিশন দুঃখ প্রকাশ করছে। সিঙ্গাপুর প্রবাসী ভাইদের কে সিঙ্গাপুর এর আইনের প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।
আঙ্গুলিয়া মসজিদ কর্তৃপক্ষ তাদের ফেসবুক পেজ থেকে নিশ্চিত করেছে, প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় মসজিদে হাদীর জানাজা হচ্ছে না। এবং জানাজা বিষয়ে কোনো সমাবেশেরও সুযোগ রাখা হয়নি সেখানে। তারা মৃতের মাগফেরাত কামনা করে পোস্ট দিয়েছে।

উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুর সরকার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবসময় অত্যন্ত কঠোর। এ বিষয়ে তাদের আইনকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে অন্যতম শক্ত আইন বলে আখ্যায়িত করা হয়। ইতিপূর্বে জঙ্গিবাদ এবং উগ্র মতাদর্শ প্রচার-প্রসারের দায়ে অসংখ্য বাংলাদেশিকে সিঙ্গাপুর কারাগারে নেওয়া হয়েছে, দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের উগ্রবাদে সংশ্লিষ্টতার তথ্য তারা সংগ্রহ করে এবং সে অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামীর নেতা এবং ওয়াজি আমির হামজা ভুয়া পাসপোর্ট এবং নাম-পরিচয়ে সিঙ্গাপুরে উগ্রবাদ ছড়ানোর চেষ্টা করায় আটক হয়ে বড় অঙ্কের জরিমানাপূর্বক সেদেশ থেকে বহিষ্কৃত হন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সুত্র জানিয়েছে, দেশে ওসমান হাদীর বিরুদ্ধে ‘মববাজি’ ও ‘উগ্রবাদের সাথে সম্পৃক্ততা’র কথা তুলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তারপর হাইকমিশনার হাদীর সমর্থকদেরকে ‘যার যার অবস্থান’ থেকে নিহতের বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে সেখানে।
জুলাই দাঙ্গা এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে পরিচিতি পাওয়া হাদী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। গত শুক্রবার গণসংযোগের জন্য বিজয়নগরে গেলে তাকে গুলি করে মোটরসাইকেলে করে আসা আততায়ী। আহত হাদীকে সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে হাদীর কফিন দেশে আনা হবে। স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৩ টা ৫০ মিনিটে ফ্লাইট ছাড়বে, ঢাকায় নামবে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে। ফেসবেুকে হাদীর কফিনের একটি ছবিও ফেসবুকে প্রকাশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। ওসমান হাদীর মৃত্যুতে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইউনূস সরকার।
