ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদীর মৃত্যু উপলক্ষে দেশজুড়ে তথাকথিত জুলাইযোদ্ধাদের সংঘবদ্ধ সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং এক হিন্দু শ্রমিককে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর মত ভয়াবহ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
আজ ২০শে ডিসেম্বর, শনিবার সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্টের মাধ্যমে এই বিবৃতি দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে হাদীর মৃত্যুর খবর জানার পর তার সমর্থক জুলাইযোদ্ধারা প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা এবং ছায়ানটের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। একইসাথে নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীরকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে।
পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের ভবনে সহিংস হামলা, দূতাবাসে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের বাসভবনেও হামলা চালায় জুলাইযোদ্ধারা। একইসাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুনরায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া হয়।
তিন দফা নাশকতায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ধানমন্ডি বত্রিশে অবস্থিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি-জাদুঘরের ধ্বংসস্তুপে পুনরায় আগুন দেয় জুলাইযোদ্ধা নামের সন্ত্রাসীরা।
এসব ঘটনার দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
উল্লেখ্য, ময়মনসিংহে কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী পোশাকশ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে একদল উগ্রবাদী তৌহিদি জঙ্গি। পরে তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে তাতে আগুন জ্বালিয়ে উল্লাস করতে দেখা যায় তাদের। আজ র্যাবের ব্রিফিংয়ে জানা গেছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
বর্বরোচিত এই ঘটনার উদাহরণ টেনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এসব সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, সহিংসতায় প্রাণহানি ও সম্পদ ধ্বংস হয়েছে।
অপরাধে জড়িতদের অবিলম্বে ন্যায়বিচারের আওতায় আনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থাটি।
