আজ না হোক কাল বাংলাদেশের মানুষের ভুল ভাঙবে।ছয় লক্ষ মসজিদ না করে যদি ৫০ হাজার হাসপাতাল করতো তবুও অসুস্থ মানুষ এদের দোয়া দিতো। ব্যাঙের ছাতার মতো মসজিদ ও মাদ্রাসা তৈরি করে বাংলাদেশের মানুষ তাদের পায়েই কুড়াল মেরেছে।এসব সত্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পারবে।৭০ হাজার মাদ্রাসার নামে লিল্লাহ বোড়িং খোলার কি দরকার ছিল? এসব লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে কি জ্ঞানী ও বিজ্ঞানী পয়দা হচ্ছে ? এসব বন্ধ করে দিলেই বাংলাদেশের জঙ্গীবাদ নব্বাই ভাগ নাই হয়ে যাবে। ইসলামী শিক্ষার জন্য অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো মক্তবের শিক্ষাই যথেষ্ঠ।এসবের পেছনে আমেরিকা, তুরস্ক ও পাকিস্তানের গোপন অর্থায়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামীতে লিখবো। বাংলাদেশ জ-ঙ্গী রাষ্ট্র হলে আমেরিকা ও পাকিস্তান উভয়ের লাভ। বাংলাদেশীদের মগজকে তাই গোবরের মগজ করে তৈরি করছে জামায়াত।এসব জামায়াতের দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ।
এসব ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যবসা বন্ধ করে দিলেই বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর অন্যতম উন্নত দেশ। কিন্তু এসব জানার পরও কেউ যদি শখ করে নিজের পেছনে বাঁশ দিতে গিয়ে ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়া হতে চায় তাহলে এদের ধ্বংস দেখা ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই।
জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করে পৃথিবীর কোন দেশ উন্নত হতে পারেনি গোলাম হওয়া ছাড়া।
জামায়াতের নেতারা বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। জামায়াতের শফিকের উইমেন্স মেডিকেল কলেজে চলছে রমরমা ব্যবসা।জনপ্রতি বিদেশী ছাত্র থেকে আদায় করছেন ৪৫ হাজার টাকা করে। তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিদেশী শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকের বেশি হচ্ছে ভারতীয় শিক্ষার্থী।মুখে ভারত বিরোধিতা আর অন্তরে লক্ষ লক্ষ টাকা কামাইয়ের ধান্দা।উনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বানিয়ে ব্যবসা করবেন এতে বলার কি আছে? ৪৫ হাজার × ৫০০ জন= বাৎসরিক আয় কত?
জামায়াতের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জ-ঙ্গী তৈরি করে ভারত হামলার ছক করে জামায়াত শিবির প্রাথমিকভাবে সফল হলেও এর ভবিষ্যৎ অন্ধকার। জামায়াত শিবির চিকিৎসা ও শিক্ষা দুটোকেই মানুষ নামের পশু তৈরির কসাই খানায় পরিণত করেছে। নিজেদের চোখের সামনেই ধ্বংস হচ্ছে প্রাণের বাংলাদেশ। ভারতের পায়ে পা দিয়ে যুদ্ধ করা বাংলাদেশের আত্মহত্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। জামায়াত শিবির এসব করছে আমেরিকা ও পাকিস্তানের আইএসআই এর ইশারায়।এতে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষতি ছাড়া আর কোন লাভ নেই।
শফিকুর রহমান একজন মেডিকেল ব্যবসায়ী।শিক্ষা তার কাছে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তার ব্যবসায়িক চরিত্র বুঝানোর জন্য একটা উদাহরণ দিচ্ছি।টাঙ্গাইলের রনদা প্রসাদ সাহা সম্পর্কে আপনাদের হয়তো অনেকেরই জানা নেই।১৯৩৮ সালে তিনি মাতামহীর শোভা সুন্দরী ডিসপেনসারি ও মায়ের নামে কুমুদিনী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।১৯৫৩ সালে কুমুদিনী হাসপাতালেই বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ক্যান্সারের চিকিৎসা চালু হয়।১৯৪৭ সালে রণদা তার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ” কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টে ” দান করে দেন।১৯৪৩ সালে বাংলাদেশের দূর্ভিক্ষে তিনি একাই আড়াই হাজার লঙ্গরখানা খুলেছেন দারিদ্র্য মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য। তিনি ছিলেন দানবীর।তাই তার বাড়ি দ্বিতল আটচালা কাঠ ও টিনের তৈরি বাড়ি।১৯৭১ সালের ৭ ই মে পাকিস্তানীরা রণদা ও তার ছেলে ভবানি প্রাসাদ সাহাকে হত্যা করে।রণদারা যে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে মানব সেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত করেছেন জামায়াত শিবির সেই চিকিৎসকে বানিয়েছে লিল্লাহ বোর্ডিং ব্যবসা।
জামায়াত নেতা শফিকের উইমেন্স মেডিকেল কলেজের একটি উদাহরণ দেই।২০২০ সালের ২৮ জুন সৈয়দা নাজমা বানু নামের একজন রোগী পেটব্যথা নিয়ে জামায়াত নেতা শফিকের হাসপাতালে গেলে তাকে ১৮ টি টেস্ট ধরিয়ে তিনদিন রেখে ১৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়।অথচ ব্যাথাটা ছিল গ্যাস্টিকেল। বাংলাদেশের ডাক্তারদের আপনি মানুষ না কসাই বলবেন সেই সিদ্ধান্ত আপনার।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এনজিও কর্মকাণ্ডের আড়ালে জ-ঙ্গী কার্যক্রম চালাচ্ছে জামায়াত-শিবির।’ স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশ ( এসকেবি) নামে জামায়াত শিবিরের একটি এনজিও সংস্থার ২২০ জন জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পায় বাংলাদেশ পুলিশ।২০১৮ সালে তাদের মধ্যে ৮ জনকে গ্রেফতার পর্যন্ত করা হয়েছিল।এসকেবি নামক সংগঠনটি বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সাথে যুক্ত। এদের মধ্যে ২২০ জন হচ্ছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী।এনজিওভিত্তিক হিউম্যানিটারিয়ান নেটওয়ার্কের ছদ্মবেশে এরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এডুকেশন, অরফান, ওয়াশ , রিহ্যাবিলেশন এসবের কথা বলে তুরস্ক , আমেরিকার ইউএসএইড , হিউম্যান এইড – ইইউ এবং হর্ন অব আফ্রিকার কথা বলে জ-ঙ্গী প্রশিক্ষণ ও অর্থ সংগ্রহ করতো।এর মাত্র এক বছর আগেই পাকিস্তানের নাগরিক আতাউল্লাহকে দিয়ে এরা ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি ( আরসা) নামে আমেরিকা ও পাকিস্তানের আইএসআই এর মদতে একটি জ-ঙ্গী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। এসবের মূলে ছিলেন জামায়াতের আমীর শফিক ও বর্তমান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। জামায়াতের তাহের ও শফিক দুজনে মিলে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে গরীব জবাইয়ের কসাই খানায় পরিণত করেছেন।
আমেরিকা, সৌদিআরব ও তুরস্ক থেকে এতিমখানা , মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং এর নামে অর্থ এনে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার নামে ধান্দাবাজির কারখানা খুলে বসেছেন।এরাই ইসলামী ব্যাংকের নামে সুদ মুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রচার করে মানুষকে ভোদাই বানায়।অথচ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি_তে এক বছরের আমানতে ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ সুদ নেয়।
জামায়াত শিবির শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থা নয় , শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও জ-ঙ্গী উৎপাদনের আঁতুড়ঘর বানিয়েছে।
২০১৬ সালের ২৬ জুলাই রাজধানীর তাজ মঞ্জিলের একটি জ-ঙ্গী আস্তানায় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলে ৯ জ-ঙ্গী নিহত হন। এদের মধ্যে একজন জামায়াত শিবির পরিচালিত চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং অপরজন শিবিরের শিক্ষা ব্যবসা রেটিনা কোচিং সেন্টারের সাথে জড়িত।শিক্ষাকে জামায়াত শিবির কোচিং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।রেটিনা , ফোকাস , সাকসেস, ফেমাস , কনটেস্ট , প্রতিভা এসব কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশকে জামায়াত শিবির জঙ্গী উৎপাদনের খামারে পরিণত করেছে। এভাবে তুরস্ক , পাকিস্তান ও আমেরিকার অর্থায়নে জামায়াত শিবির ৪০ টার মতো জ-ঙ্গী সংগঠন গড়ে তুলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
ইনডেক্স, ফোকাস ও সাইফুর’স এর কর্মরত জঙ্গীরাও বিভিন্ন সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। জামায়াত শিবিরের এসব জঙ্গী কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে একটা পঙ্গু রাষ্ট্রে পরিণত করে মিনি পাকিস্তানের মতো একটি জ-ঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত করা।এতে করে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো চিরদিনের জন্য আমেরিকার গোলাম বানিয়ে রাখা যাবে। যেভাবে আল কায়েদা ও তালেবান আমেরিকার গোলাম হয়েছে পাকিস্তানে বসে , ঠিক তেমনি এই স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত শিবিরের সৃষ্টিও হয়েছে পাকিস্তানের লাহোরে।
জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা খেতে চেয়েছে , এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব খেতে চায়। একদিকে জঙ্গী সংগঠন আরসা বানিয়ে বাংলাদেশ ও মায়ানমার যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশের ভেতরে আমেরিকার একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র তৈরির স্বপ্নের জন্য । অন্যদিকে সাদিক কায়েম , হাসনাত , সার্জিস এসব ঘেউ ঘেউ তৈরি করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে একটি যুদ্ধ লাগিয়ে তৃতীয় শক্তি আমেরিকাকে বাংলাদেশে দাওয়াত দিচ্ছে।কারণ জামায়াত নেতারা ভালো করেই জানে আর কখনোই ২৩০০ কিলোমিটার দূর থেকে উড়ে এসে পাকিস্তানের পক্ষে বাংলাদেশ শাসন সম্ভব নয়। এজন্য ভারত বিরোধিতার নামে এরা বাংলাদেশকে আমেরিকার হাতে তুলে দেয়ার পাঁয়তারা করছে। এইভাবে ২০০১ সালে আফগানিস্তানকে সোভিয়েত রাশিয়ার দখল মুক্ত করে আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছিল আর কায়েদা, তালেবান ও পাকিস্তান।এসব নরপশুদের থেকে বাংলাদেশ রক্ষা করুন।
জঙ্গী না মানুষ হবেন, এই সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার।। সত্য সবসময় সুন্দর।
লুসিড ড্রিম
২৩-১২-২০২৫
