স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক জোট গঠনের আলোচনা সামনে আসার পর জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) ভাঙনের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত এক সপ্তাহে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত ১৪ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন।
শুক্রবার এনসিপি’র একটি সূত্র বিডি ডাইজেস্ট জানিয়েছে, এই পদত্যাগের ধারা এখনও থামেনি; বরং আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এনসিপি’তে থাকা সাবেক শিবির ও ইসলামপন্থী ছাড়া অন্য গ্রুপগুলোর জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছে সুত্রটি।
সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার একদিনেই এনসিপির চারজন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেন।
তারা হলেন—যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, সংগঠক ওয়াহিদুজ্জামান এবং সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে খান মুহাম্মদ মুরসালীন অভিযোগ করেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বললেও এনসিপি বাস্তবে পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার অংশীজনদের সঙ্গে আপস করেছে।
গতকাল বিকেল পৌনে ৩টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি দল ছাড়ার কথা জানান।
অন্যদিকে বিকেল ৫টার দিকে এনসিপির আহ্বায়কের কাছে অনলাইনে পদত্যাগপত্র পাঠান মুশফিক উস সালেহীন। পরে ওয়াহিদুজ্জামান ও আল আমিন আহমেদ টুটুলও অনলাইনে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা ও রাজনৈতিক জোটের আলোচনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এনসিপির ভেতরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়।
এই জোটের বিরোধিতা করে দলের ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা এর আগে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। ওই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন মুশফিক উস সালেহীন ও খান মুহাম্মদ মুরসালীন।
২৫ ডিসেম্বর নাহিদ ইসলামের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকেও দলের ছয়জন নারী নেতা জামায়াত-এনসিপির প্রায় চূড়ান্ত হওয়া আসন সমঝোতা নিয়ে আপত্তি জানান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, নুসরাত তাবাসুম, তাজনূভা জাবীন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা এবং নাহিদা সারোয়ার নিভা।
এনসিপিতে পদত্যাগের ধারাটি শুরু হয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিন। সেদিন তাকে সমর্থন জানিয়ে পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক।
এর দুই দিন পর পদত্যাগ করেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। পরদিন পদত্যাগ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন, যিনি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথাও জানান।
এরপর ৩০ ডিসেম্বর আরও তিন নেতা দল ছাড়েন। তারা হলেন—যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল (নেহাল) এবং কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী আজাদ খান ভাসানী।
৩১ ডিসেম্বর রাতে এনসিপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। একই সময়ে পদত্যাগ করেন যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহাদ আল ভূঁইয়া, সদস্য মারজুক আহমেদ এবং মীর হাবীব আল মানজুর।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় এনসিপির ভেতরে নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এই ভাঙন দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে বলে মনে করছেন তারা।
