নওগাঁয় কারা হেফাজতে আব্দুর রশিদ (৫৫) নামে আওয়ামী লীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল ৩রা জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়।
আব্দুর রশিদ রানীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাইল হিন্দু পাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
জানা যায়, গত ২৫শে ডিসেম্বর রাতে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-টু’ অভিযানে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৬শে ডিসেম্বর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
নওগাঁ জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার আবুল কালাম আজাদ জানান, বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তির পর মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে তিনি মারা যান। হাসপাতালের আরএমও আবু জার গাফফারও হার্ট অ্যাটাকের কথা উল্লেখ করেছেন।
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ গত কয়েক মাসে একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী কারা হেফাজতে ‘হঠাৎ অসুস্থ’ হয়ে মারা যাচ্ছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষার্ধে অন্তত ২০-২৪ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি:
নভেম্বর ২০২৫: টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে সুলতান মিয়া (৫৫), মির্জাপুরের আওয়ামী লীগ নেতা।
নভেম্বর ২০২৫: কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে মুরাদ হোসেন (৬৫), মিরপুরের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা।
অক্টোবর ২০২৫: সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে আহমদ মোস্তফা খান বাচ্চু (৮৬), থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি।
ডিসেম্বর ২০২৫: কাশিমপুর কারাগারে ওয়াসিকুর রহমান বাবু (৪৩), বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগ নেতা।
নভেম্বর ২০২৫: গাইবান্ধা জেলা কারাগারে তারিক রিফাত (৫৫), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা।
এসব মৃত্যুর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ‘হঠাৎ অসুস্থতা’ বা ‘হার্ট অ্যাটাক’। পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব মৃত্যুকে ‘রহস্যজনক’ আখ্যা দিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এগুলো হেফাজতে হত্যা এবং স্বাধীন তদন্ত করতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের পর কারাগারে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে, যা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
