বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকা সফর করেছেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত শোকবার্তা তুলে দিয়েছেন। এ সফরকে কূটনৈতিক মহল দিল্লির পক্ষ থেকে বিএনপির প্রতি স্পষ্ট সমর্থনের বার্তা হিসেবে দেখছে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় এবং ইউনূস সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিতে রাজী না থাকায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে উজ্জীবিত বিএনপি ক্ষমতায় আসার টপ ফেভারিট।
বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে প্রায় সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫ই আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশ্রয়ে দেশে উগ্রবাদী ও মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতের কাছে বিএনপি এখন সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও মধ্যপন্থী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার ভারতকে আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন ও সীমান্ত সুরক্ষায় ভারতকে যে মূল্যবাদ সহযোগিতা করেছে, ভারত এখন সেই নিশ্চয়তা খুজছে আগামী নির্বাচনে টপ ফেভারিট বিএনপি’র কাছে।
এছাড়া ড. ইউনূস সরকারের সেভেন সিস্টার বিষয়ে কূটনীতিক শিষ্টারচার বহির্ভূত বক্তব্য এবং ইন্টেরিমের প্রশ্রয়ে বাড়তে থাকা ভারত বিদ্বেষের বিরুদ্ধে বিএনপিই হতে পারে দিল্লির আস্থার জায়গা।
জয়শঙ্করের সফরে মোহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা না করা এবং শুধু বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা দিল্লির নতুন কৌশলের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
জামায়াতে ইসলামীও ভারত ও চীনের সাথে কূটনীতিক মিটিং করে বেশ কয়েকবাদ। নিজেদের আস্থাশীল হিসাবে প্রমাণ করতে ব্যার্থ হয় জামাত, সে কারনেই বিএনপির প্রতি ভারতের সমর্থনের পাল্লা আরো ভারী হচ্ছে বলে মনে করছেন ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভারত এখন বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। এতে দু’দেশের সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।
