নীলুফা ইয়াসমীন হাসান
বর্ণিল আতশবাজি, আলোকসজ্জায় বর্ষবরণের মাধ্যমে কালপঞ্জির স্বাভাবিক নিয়মে শেষ হলো ২০২৫। আগমন ঘটলো ২০২৬ সালের।সুস্বাগতম!
অন্যতম পথিকৃৎ ‘বাংলা টিভি’ যুক্তরাজ্যের প্রথম বাংলা স্যাটেলাইট চ্যানেল হিসেবে ১৯৯৯ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করেছিল, যা ইউরোপ ও বিলেতের বাংলাভাষী দর্শকদের লক্ষ্য করে প্রতিষ্ঠিত। এটি ছিল সাব-কন্টিনেন্টের বাইরে প্রথম বাংলা ভাষার স্যাটেলাইট চ্যানেল। পরবর্তীতে, ২০১৭ সালের ২রা নভেম্বর যুক্তরাজ্যে এর সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায় এবং তখন থেকে এটি মূলত বাংলাদেশ-কেন্দ্রিক চ্যানেল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

বিভিন্ন সময়ে যারা ‘বাংলা টিভি’তে কর্মরত ছিলেন তারা মাঝেমধ্যে একত্রিত হয়ে আড্ডায় মেতে উঠেন।
এবার ২০২৬ সালকে বরণ করার নিমিত্তে বাংলা টিভির সাবেক সহকর্মীরা হাজির হলাম টেমসের পাড়ে অবস্থিত স্মৃতি আজাদ ও মিঠু আজাদ দম্পতির সুন্দর সাজানো গৃহকোণে। রুপি আমিনের উৎসাহে সপ্তাহব্যাপী চলে বিভিন্ন পরিকল্পনা। কে কোন রান্নায় পারদর্শী সেই মোতাবেক লিস্ট তৈরি করা হলো সবাই রান্না করে নিয়ে আসবেন।
স্মৃতির কেনারিওয়ার্ফ এর বাসায় আমি আর হাসান যখন ঢুকলাম খাবারের মৌ মৌ গন্ধে অর্ধ ভোজন হয়ে গেল আমাদের। রান্না ঘরে মিঠু ভাইকে দেখলাম রান্না করছেন, কিন্তু স্মৃতির দাবী চমুচা, ডাল পুরি, হাঁস, কলিজা ভুনা থেকে শুরু করে সব আইটেম সে নিজেই রান্না করেছে।

তারপর একে একে রবীন হায়দার-সেলিনা দম্পতি, সারোয়ার হোসেন মিলু ও নিপা দম্পতি, রুপি-শাহীন দম্পতি, শাহীন-নাসিমা দম্পতি, মুনিরা পারভীন- আরিফ দম্পতি ও ঊর্মি মাজহারসহ সবাই এসে হাজির হলেন। সকলের রান্না করে আনা খাবারে ডায়নিং টেবিল ভর্তি হয়ে গেল।
২০২৫ সালের শেষ দিনের আয়োজনে সবার প্রিয় সাত্তার ভাইয়ের ‘চমচম’ নিয়ে আসার কথা ছিল। তিনি জানালেন হঠাৎ তাঁকে লন্ডনের বাইরে চলে যেতে হচ্ছে। সবাই রসিকতা করে বলছিল, তিনি টাঙ্গাইলের চমচম আনতে হয়তো টাঙ্গাইল গিয়েছেন, অথবা ইরানি চমচম আনতে তেহরান গেছেন। তিনি শেষ পর্যন্ত এলেননা, ‘চমচম’ খাওয়া হলোনা। তবে, নতুন বছরে ‘চমচম’ পার্টি হবে। যারা বছরের শেষ দিনে বিভিন্ন কারনে আসতে পারেননি আশা করি ‘চমচম পার্টিতে’ উপস্থিত হতে পারবেন।
তারপর মজাদার খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি চলতে থাকলো বাংলা টিভিতে কাজ করার সময়কালীন মধুর স্মৃতি রোমন্থন এবং জম্পেশ আড্ডা।

এরই মধ্যে ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চললো। আমরা ঠিক করলাম টেমসের পাড়ে টাওয়ার ব্রিজে যেয়ে স্বচক্ষে বিগ বেন এর আইকনিক ঘন্টার কাউন্ট ডাউন এবং আতশবাজির বর্ণিল আলোয় আলোকিত মনোমুগধকর প্রদর্শনী দেখবো। কিন্তু যারা মনের দিক থেকে ‘বুড়ো’ এবং শীতে ‘জুবুথুবু’, তাঁরা বাধ সাধলো যাবেননা, আরাম কেদারায় বসে টিভিতে বর্ষবরণ দেখবেন। তখন সবার চেয়ে ‘নবীন’, ‘সতেজ’, যাঁকে শীত কাবু করতে পারেনা তিনি (হাসান) গোঁ ধরলেন যেতেই হবে। আমি, মুনিরা, রুপি, স্মৃতি আমরাও যেতে আগ্রহী হলাম। আমাদের পক্ষে দাঁড়ালো নতুন প্রজন্মের প্রত্যয়, প্রিয়তি, তানিশা, আরিশ, নিধি ও ইলহাম। আয়োজন করা হলো ‘হাঁ’ ‘না’ ভোটের। ভোটাভুটিতে বিপুল ভোটে ‘হাঁ’ জয়যুক্ত হলো। অবশেষে সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য মুনিরার ছেলে ইলহাম এর নেতৃত্বে আমরা তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে পৌঁছে গেলাম টাওয়ার ব্রিজে।
রাত বারটা বাজার সাথে সাথে বর্ণিল আতশবাজির বর্ষবরনের উৎসবে মেতে উঠলো সবাই। পুরনো বছরকে পেছনে ফেলে আনন্দ উল্লাস আর উৎসবের মধ্যে দিয়ে বছরকে স্বাগত জানিয়ে আবারো সবাই ফিরেছে স্মৃতির বাসায়। গল্প আড্ডায় ২০২৬ সালের প্রথম ভোর রাত পর্যন্ত মেতে ছিল সকলে। এই আনন্দের রেশ যেন থাকে সারা বছরব্যাপী সেই প্রার্থনা সবার জন্য।
