“অর্ধ শতাব্দীর অধিক রাজনীতির অবসান। বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বিদায়ে শোকাহত জাতি। তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে”
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং সাবেক সফল মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি ১২ জানুয়ারি ১৯৪৩ থেকে ১৩ মে ২০২৬ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন অতিক্রম করে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচরদের একজন। তিনি ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আজীবন জনগণের রাজনীতিতে নিবেদিত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি সেক্টর-১-এর অধীন সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্ব ও সাহসিকতা যুদ্ধকালীন প্রতিরোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদান রাখেন।
অথচ, অবৈধ ভাবে ক্ষমতায় এসেই ইউনুস, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করে। বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগতে থাকা এই প্রবীণ জননেতা কে মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘ ৮ মাস কারাবাস করিয়েছে ইউনুস। কারাবাসকালীন সময়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্ছিত করা হয়। অবস্থা সংকটাপন্ন হলে ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তাঁকে যখন জামিন প্রদান করা হয় তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন।
যে মানুষটি নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন এবং স্বাধীনতার পরবর্তী ৫৪ বছর ধরে দেশের রাজনীতি ও জনসেবায় নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন, সেই মানুষটিকে জীবনের এক সংকটময় মুহূর্তে যথাযথ মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হয় ।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, যিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দল, দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংগঠন, আন্দোলন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। । তাঁর মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ পরিবার একজন অভিজ্ঞ, দূরদর্শী ও ত্যাগী নেতাকে হারালো। দেশের জন্য তাঁর অবদান, ত্যাগ ও সংগ্রাম জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
