আযম খান
আমি বা আমরা এক অর্থে শাহরিয়ার কবিরের শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা বই পড়ে বড় হওয়া। তার এবং জাফর ইকবালের বই কেনার জন্য রীতিমতো টাকা জমাতাম। আমাদের শৈশবে ফোন-কম্পিউটার ছিল না। তাই বই আর খেলাধুলা ছিল বিনোদনের একমাত্র উৎস। আপনাদের সন্তানদের যদি বইমুখী, আলোকিত মানুষ হিসাবে তৈরি করতে চান তবে শুধু “নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়” বইটা ধরিয়ে দিবেন। এছাড়াও উনি শিশু-কিশোরদের জন্য আরো অনেক বই লিখেছেন।
শাহরিয়ার কবির মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম বিশিষ্ট কর্মী ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য অনুপ্রেরণামূলক পাণ্ডুলিপি এবং কবিতা লিখতে সহায়তা করেছিলেন যেগুলো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো।
শাহরিয়ার কবিরকে আমি ব্যাক্তিগতভাবে চিনি। তিনি জামাত-শিবিরের রাজনীতির ঘোর বিরোধী। কিন্তু তিনি মানুষ হিসাবে এতটা মানবিক যে তার সামনে যদি তার শত্রুপক্ষেরও কেউ আহত হয়ে পড়ে থাকে তবে সবার আগে তিনি দৌড়াবেন তাকে হাসপাতালে নিতে।
এই মানবিক মানুষটার তারুন্য-যৌবন পর্ব শেষ বহু আগে। বহুদিন থেকে তিনি একজন বৃদ্ধ মানুষ যিনি ঠিক করে হাঁটাচলা করতে পারেন না। এই থুত্থূড়ে বুড়ো মানুষটাকে লিজা আখতার নামে এক গৃহকর্মীকে ২০২৪ এ হত্যার মিথ্যা মামলায় জেলে আটকে রাখা হয়েছে।
অথচ, ২০২৪ এর জুলাইতে তারা দেশের মানুষকে এই সলিম বুঝ দিয়েছিল তারা বাংলাদেশে আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
বাংলাদেশে মানুষ রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার হয়। তবে কবি-সাহিত্যিকদের এভাবে গ্রেফতার করার নজির খুব একটা নাই। বিএনপির যেসব বুদ্ধিজীবী আছেন, জামাতের যারা আছেন তাদের বোঝা উচিত যে এটা একটা উদাহরণ তৈরি করেছে যার ভিকটিম কোন একদিন তারাও অবশ্যম্ভাবীভাবে হবেন।
আমি তাদের জায়গায় থাকলে নিজের পিঠ বাঁচাতে হলেও শাহরিয়ার কবিরের মুক্তির জন্য কথা বলতাম, প্রয়োজনে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াতাম। এটা হয়তো একটু বেশি চেয়ে ফেলেছি। বাংলাদেশে সুস্থ চিন্তার মানুষের সংখ্যা এমনিতেই কম, এমনকি সুস্থ চিন্তার মানুষের জন্য বাংলাদেশ একটা বিপজ্জনক জায়গাও বটে।
আমি শাহরিয়ার কবিরের মুক্তি চাচ্ছি না। কারণ আমরা মুক্তি চাইলেও তারা দিবে না।
শুধু এটুকু বলে রাখি কোনদিন গণেশ উল্টে গেলে আমার মতন মানুষেরা এসব চরম অপছন্দ করলেও আপনাদের ঘরানা লেখক-সাহিত্যিক-কবিদের উপর দিয়ে যা যাবে সেটার প্রতিবাদ করার নৈতিক অধিকার আপনারা জামাত-বিএনপি ক্ষমতায় থাকতেই হারিয়ে ফেলেছেন।
