আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেউ যেন ভোটকেন্দ্রে না যায়—এটি ‘নিশ্চিত’ করতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যেও ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
রোববার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রচারিত এক ভাষণে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় নির্বাচনে বিশ্বাস করে এবং কখনো নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় আসেনি।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ ১৩টি নির্বাচনের মাধ্যমে ৯টিতে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে।”
বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার অধিকার কে দিয়েছে এবং বলেন, “ইউনূস আসুক নির্বাচনে, আমাদের হারাক।”
সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, কাউকে অনুসরণ না করে জনগণের শক্তি নিয়েই পথ চলতে হবে। তিনি রাজধানী থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণসংযোগ চালানোর নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, “কোথায় কী কী নির্যাতন করা হয়েছে, কলকারখানা থেকে কৃষিখামার—সব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।”
ছাত্রলীগ কর্মীদের হত্যা-নির্যাতন, সাংগাঠনিক প্রতিরোধের নির্দেশনা
ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, ইউনূস সরকারের শাসনামলে ছাত্রলীগের হাজারো কর্মী নিহত হয়েছেন।
তাঁর ভাষায়, “ফ্যাসিস্ট ইউনূস হাজার হাজার ছাত্রলীগ কর্মীকে বিনা অপরাধে জেলে রেখেছে। হাজার হাজার ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যা করেছে। ছাত্রলীগের কর্মীদের বাড়িতে না পেলে তার বাবা–মা–চাচাকে হত্যা করেছে।”
তিনি এসব ঘটনাকে “চিন্তার বাইরে জঘন্য” বলে উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত মানা হবে না। ছাত্রদের মাঝে বার্তা পৌঁছাতে হবে, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনায় নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে ছাত্রলীগের হাত ধরে, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই সংগঠন।”
শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ কর্মীদের হত্যা ও নির্যাতনের তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনা ধ্বংসে যারা জড়িত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছে—তাদের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে বিচার নিশ্চিত করা যায়।
মামলা প্রত্যাহার ও কারাবন্দিদের মুক্তির দাবি
ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের মুক্ত করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের শোবার জায়গা নেই এবং যশোরসহ বিভিন্ন কারাগার ধারণক্ষমতার বাইরে বন্দিতে ভরে গেছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, অনেক ছাত্রলীগ কর্মীর শিক্ষাগত সনদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যাদের সনদ নেওয়া হয়েছে তাদের তথ্য সংরক্ষণ করে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি পাকিস্তান আমলের উদাহরণ টেনে বলেন, “ডিগ্রি কাড়তে পারে, বিদ্যা কাড়তে পারে না।”
শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি আমলে হাওয়া ভবন থেকে তালিকা আসত। এখন তালিকা আসে ইউনূস সেন্টার থেকে, জামায়াতের কাছ থেকে। কিন্তু সাধারণ মানুষ চাকরি পায় না।”
তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসায় শতভাগ পাশ হলেও স্কুলে পাশের হার কম—এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে।
