জানুয়ারি ১১, ২০২৬: বাংলাদেশের হাইকোর্ট বিভাগ মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানিতে রায় দিয়েছে যে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। আদালতের মতে, মুসলিম ফ্যামিলি লস অর্ডিন্যান্স ১৯৬১-এর বিধান অনুসারে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি প্রদানের এখতিয়ার আরবিট্রেশন কাউন্সিলের (সালিশি পরিষদ) ওপর ন্যস্ত, এবং কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি থাকলে স্ত্রীর সম্মতি না থাকলেও বিয়ে আইনগতভাবে বৈধ থাকবে। এই রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছে যে আইনে সরাসরি প্রথম স্ত্রীর অনুমতিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি, বরং কাউন্সিলের অনুমোদনই মূল ভিত্তি।
এই রায়ের আইনি ভিত্তি হলো মুসলিম ফ্যামিলি লস অর্ডিন্যান্স ১৯৬১-এর ধারা ৬। এই ধারায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান বিয়ের অস্তিত্ব থাকা অবস্থায় কোনো পুরুষ আরবিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্ব লিখিত অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে না, এবং এমন বিয়ে নিবন্ধিতও হবে না। আবেদনে কারণ উল্লেখ করতে হবে এবং বিদ্যমান স্ত্রীর সম্মতি আছে কি না তা জানাতে হবে, কিন্তু হাইকোর্টের ব্যাখ্যায় এটি বাধ্যতামূলক শর্ত নয়—বরং কাউন্সিলের সন্তুষ্টি ও ন্যায়সঙ্গততার ভিত্তিতে অনুমতি দেওয়া যাবে।
আদালতের ২৪ পৃষ্ঠার রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাউন্সিলের অনুমতি না নিলে বিয়ে অবৈধ হয় না, তবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ (এক বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা)।
এই রায় নারী অধিকারকর্মী ও সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছেন, এর মাধ্যমে প্রথম স্ত্রীর অধিকার ও সমতার নীতিকে অস্বীকার করে দেশকে আরও বেশি করে শরিয়া আইনের কঠোর ব্যাখ্যার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮(২)-এ নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি CEDAW-এর অধীনে বাংলাদেশ পলিগ্যামিকে নিয়ন্ত্রণ করে নারীদের বৈষম্য রোধ করতে বাধ্য। কিন্তু এই রায়ে কাউন্সিলের (যা প্রায়শই পুরুষ-প্রধান) একক সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়ায় প্রথম স্ত্রীর অর্থনৈতিক, মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নারী সংগঠনগুলো যেমন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১-এর আলোকে স্বামীর প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বা সালিশি পরিষদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার পক্ষে অবস্থান নেয়, কারণ আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নিবন্ধনযোগ্য নয় এবং এটি প্রথম স্ত্রীর অধিকার হরণ করে; সংগঠনটি নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় এই আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য সোচ্চার
এই রায়ের পর নারী অধিকার রক্ষায় আইন সংস্কারের দাবি জোরালো হয়েছে। সরকার ও বিচার বিভাগকে এখন সেকুলার মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দেশ শরিয়া-ভিত্তিক রাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর না হয়।
