#
ঢাকা ১৬ জানুয়ারিঃ দেশজুড়ে মৌলবাদী উস্কানি ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, ঐতিহ্যাবাহী উৎসব পর্বন বন্ধে মৌলবাদীদের আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—মৌলবাদকে কোনো তোয়াক্কা না করে বাঙালির হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি ও উৎসবের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
পৌষ পার্বণ ও মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আওয়ামী লীগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মৌলবাদের অন্ধকার যখন সংস্কৃতি’র গলা টিপে ধরছে—তখনও বাংলাদেশ বেঁচে থাকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায়। সবাইকে পৌষ পার্বণ ও মকর সংক্রান্তির আন্তরিক শুভেচ্ছা।”
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “বর্তমান অস্থির সময়ে পরিকল্পিতভাবে মৌলবাদের উস্কানি ছড়ানো হচ্ছে। অবৈধ জামাতি ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পরিস্থিতিতে সারাদেশে অস্থিতিশীলতা, ভয়ভীতি ও সংস্কৃতি দমনের রাজনীতি প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে।”
পুরান ঢাকার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব বন্ধের হুমকি ও ঘোষণা তার সবচেয়ে জ্বলন্ত উদাহরণ। মকর সংক্রান্তি ও পৌষ পার্বণ—যা ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে বাঙালির মিলনের উৎসব—সেটিকেই মৌলবাদীরা ‘অপরাধ’ বানাতে চাইছে, ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে বিগত কদিন ধরে পুরান ঢাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় মোরাল পুলিশিং করেছে, সাকরাইন উৎসবের বিরুদ্ধে মাইকিং করেছে। এই সকল মোলবাদীডের সাথে যুক্ত হয়ে পুলিশও বিভিন্ন এলাকায় সাউন্ডবক্স, বিটবক্স, লাইটিং আটক করেছে .পৌষ সংক্রান্ত্রি” আগের কিছুদিন।
আওয়ামী লীগের মতে, এই ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য একটাই—বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ভেঙে ফেলা। দলটি সতর্ক করে বলেছে, আজ সাকরাইন বন্ধের ষড়যন্ত্র মানে কাল পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ কোনো মৌলবাদী রাষ্ট্র নয়, ছিল না, হবেও না। ভয় দেখিয়ে, উৎসব বন্ধ করে, সংস্কৃতি দমন করে এ দেশের চেতনাকে মুছে ফেলা যাবে না। এই দুঃসময়ে সংস্কৃতির পাশে দাঁড়ানো মানেই বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানো।”
আওয়ামী লীগের এই শুভেচ্ছা বার্তা শুধু একটি উৎসবের অভিনন্দন নয়—এটি মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ঘোষণা এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থানের দৃঢ় অঙ্গীকার। দলের পক্ষ থেকে সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে—মৌলবাদী চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে বাঙালির সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার জন্য।
