মধ্যপ্রাচ্যে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে পোস্ট অফিসের একটি গুদাম থেকে ‘পরিত্যক্ত’ হাজার হাজার পোস্টাল ব্যালট পাওয়া গেছে।
‘বিতরণের অযোগ্য’ বিবেচনায় ফেলে দেওয়ার জন্যই এগুলো ওই গুদামে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
নিয়মিত কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশি-আমেরিকান এক পোস্টাল কর্মীর চোখে প্রথম বিষয়টি ধরা পড়ে; পরে তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।
গত কয়েক দিন ধরেই প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট নিয়ে একের পর এক অব্যবস্থাপনার খবর সামনে আসছে। মূলত বাংলাদেশ প্রান্তে ঠিকানায় গড়বড় থাকার কারণেই বিপত্তি তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি বিতরণ করা হয় ‘জিপ কোডের’ ভিত্তিতে; কিন্তু ওই হাজার হাজার ব্যালটের খামে জিপ কোডের পরিবর্তে লেখা ছিল ‘পিও বক্স নম্বর’। আর এতেই বিতরণের অযোগ্য তালিকায় চলে যায় এসব ব্যালট।
সাধারণ নিয়মে ভুল ঠিকানা কিংবা বিতরণের অযোগ্য চিঠিপত্র নির্দিষ্ট সময়ের পর ‘ডাম্পিং স্টেশনে’ পাঠানো হয়।
তবে নিউ ইয়র্কে ব্যালটের এই ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে ইউএস পোস্টাল ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন এবং দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। বিষয়টির সুরাহায় প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি বিলি হয় জিপ কোডের ভিত্তিতে। কিন্তু কিছু ব্যালটের চিঠির ঠিকানায় পিও বক্স লেখা ছিল। এ ধরনের চিঠি ডেলিভারি না হয়ে পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের স্টোরেজে জমা ছিল।”
তিনি আরও জানান, “বিষয়টি নজরে আসার পর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, দূতাবাস ও ইউএস পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনলাইনে মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা আমাদের সুপারিশ সাপেক্ষে তা সঠিকভাবে বিতরণের ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।”
নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটাররা সময়মতো পোস্টাল ব্যালট পাবেন বলেও নিশ্চিত করেছেন কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল।
