আসাদুজ্জামান আসাদ
আমার হঠাৎ খুব চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এর আঞ্চলিক অফিসার হিসেবে কাজ করা আশিক চৌধুরী নামে এক ভণ্ডকে লন্ডন থেকে উড়িয়ে এনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ( BIDA) ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ( (BEZA) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব দিয়েছিল ইউনূসের এনজিও সরকার। যার ফলে বাংলাদেশের ৬২ শতাংশ বিনিয়োগ কমে গেছে এবং ১০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানিও হাওয়া হয়ে গেছে। ইংরেজিতে একটু পটু হলেই আমাদের দেশের মানুষ তাকে ভগবান / ঈশ্বর/ আল্লাহ এসব ভাবতে শুরু করে।নিজ দেশের মানুষের পায়ে এইভাবেই কুড়াল মেরেছিলেন এনজিও সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস।
ইউনূসের এনজিও সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মূলত মার্কিন ডিপ স্টেটের এজেন্ট। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বাংলাদেশে যাতায়াতের নেপথ্যে ছিলেন এই খলিলুর রহমান। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর খলিলুর রহমানকে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান BCS foreign affairs cadre হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ তারেকের মন্ত্রীসভায় বসে মার্কিন ডিপ স্টেটের স্বার্থ দেখবে খলিল।খল অভিনেতা খলিল কে যারা চেনেন তাদের এই অভিনেতা খলিলুর রহমানকে বুঝতে বেশি সময় লাগার কথা নয়।সংসদ সদস্য না হওয়ার পরও শুধুমাত্র তারেক রহমানের বিশেষ বিবেচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেলেন মার্কিন ডিপ স্টেটের এই কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ – মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলী রিয়াজকেও আমেরিকা থেকে উড়িয়ে এনেছিল ইউনূসের এনজিও সরকার। গত ১৮ মাসের আলী রিয়াজের ফলাফল এখন পর্যন্ত শূন্য। মূলত এই মার্কিন ডিপ স্টেটের এজেন্টদের ইউনূস নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে।আমরা এদের জ্ঞাননির্ভর মিষ্টি কথায় বিভ্রান্ত হয়েছি। বাঙালির মাথায় গোবর ভর্তি বলেই ইউনূস একটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ১৭ কোটি মানুষকে বোকা বানানোর সুযোগ পেয়েছে। ডিপ স্টেটের এজেন্টদের সর্দারে পরিণত হয়েছিল ইউনূস।
১৯৮৫ সালে এরশাদ সরকারের আমলে জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে কাজ করা খলিলুর রহমান বাংলাদেশের চেয়ে আমেরিকার স্বার্থই বেশি দেখবেন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্তে ভারত এই কারচুপির নির্বাচন মেনে নিলেও এর ভবিষ্যৎ যে খুব একটা ভালো হবে না তা ভারত খুব ভালো ভাবেই জানে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে ইতিমধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বেশ সক্রিয়। এদের কথার বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা তারেক জিয়ার আছে বলে আমার মনে হয় না।
লোক দেখানো এই রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে রাজনীতিবীদ দের একটি পপুলিজম নামক রোগ।এই ধরণের রোগীরা নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারফরমেটিভ পলিটিক্স এর আশ্রয় নেয়।যা বাস্তবতার সাথে বিশাল ফারাক। কুটনৈতিক ভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে এখন ভারত তারেক জিয়ার সরকারকে সমর্থন করলেও এই সমর্থন কতদিন দীর্ঘস্থায়ী হবে তা বলার সময় এখনও আসেনি। অপরদিকে জামায়াতের মৌলবাদী রাজনীতি তারেককে একটা চাপের মধ্যে রাখবে এতে কোন সন্দেহই নেই। এক্ষেত্রে সুযোগসন্ধানী তারেক রহমান সবসময় গোপন সমঝোতার রাজনীতি করেন , তা আপনাদের অনেকেই জানেন। বাংলাদেশের ভূ- রাজনৈতিক সমীকরণে একে লোক দেখানোর রাজনীতি বলতে পারেন।এটা একটা রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ও গণতন্ত্রের জন্য চরম ক্ষতিকর। বাংলাদেশের চেয়েও কয়েক কোটি বেশি মুসলমানের দেশ পাকিস্তানের সংসদেও এত টুপি পরা ভণ্ড খুঁজে পাবেন না, যত ভণ্ড এইবার বাংলাদেশের সংসদে গেছে।
এই দেশে আলী রিয়াজ , খলিল , আশিক চৌধুরীরা সম্মান পেলেও হুমায়ূন আজাদকে নিজের জীবন দিতে হয়েছে , ডক্টর জাফর ইকবাল স্যারের মতো গুণী মানুষকে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছে পরিবারসহ। বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের সাথে কাজ করা বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ‘ দ্য আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স ” বইয়ের লেখক জামাল নজরুল ইসলাম স্যার পর্যন্ত এই দেশে মূল্যায়িত হননি।বিজ্ঞানী বিজন কুমার শীলকেও বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছে। ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইনের মতো রাজনীতির নষ্ট পলিটিক্যাল ডিজাইনে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লুসিড ড্রিমদের জীবন । চোখের দু’ ফোঁটা জল ছাড়া বাংলাদেশকে দেওয়ার আমার কিছুই নেই। বাংলাদেশের অন্ধকার ভবিষ্যৎ দেখে আফসুস করা ছাড়া এই মুহূর্তে করার কিছুই নেই।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই হচ্ছে দূর্নীতিবাজ ও ক্ষমতালোভী । এজন্য ওদের কাছে দেশপ্রেমিকের চাইতে দূর্নীতিবাজ তারেক ও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির এখন প্রিয় হয়ে উঠছে।স্বাধীনতা বলতে জামায়াতের আমীর শফিক বুঝছেন ১৯৪৭ সাল। জামায়াতের আন্ডা বাচ্চা শিবির স্বাধীনতা বলতে বুঝছে ২০২৪ সাল। এর মাঝখানে , আগে ও পরে কিচ্ছু নাইয়ের বাংলাদেশে আরেকটি যুদ্ধ ছাড়া মুক্তি অসম্ভব।
এই দেশে নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিকরা ভীষণ রকম একা হয়। ভণ্ডের দলের অভাব হয় না আসিফ নজরুল , মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও আশিক চৌধুরীর মত ভন্ডদের জন্য। পঙ্গপালের বাংলাদেশে , ধর্মান্ধদের বাংলাদেশে মানবতার মুক্তির জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিতে হবে আমাদের। কথায় আছে ,
” নিজের পায়ের তলায় মাটি না থাকলে নিজের ছায়াও উপহাস করে।”
