বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার পুত্র এবং আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায় তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি বিস্তারিত পোস্ট করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণের সঙ্গে জড়িত অ্যান্টি-টেররিজম (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বৈধতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি নতুন বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারকে সাংবিধানিকভাবে ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশকে অনুমোদন বা ল্যাপস করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
জয়ের পোস্টে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য অ্যান্টি-টেররিজম অ্যাক্ট, ২০০৯-এ সংশোধনী এনে রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা অর্জন করে এবং তার ভিত্তিতে এস.আর.ও. ১৩৭এইন/২০২৫ প্রকাশ করে। সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে, নতুন সরকারকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই অধ্যাদেশ উত্থাপন করতে হবে। উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে বৈধকরণ আইন পাস না হলে অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার এই অধ্যাদেশকে অনুমোদন করে তাহলে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের অ্যান্টি-টেররিজম আইনের অপব্যবহারকে সমর্থন করবে, যা গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ণ করবে এবং আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে। এতে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণের অসাধারণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, যদি নবগঠিত সরকার অধ্যাদেশকে অনুমোদন না করে তাহলে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের শত্রুতাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দূরে সরে আসার ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে এবং অধিকার-সম্মত, সংকীর্ণ অ্যান্টি-টেররিজম ফ্রেমওয়ার্ক পুনরুদ্ধার করবে।
জয়ের মতে, বহুদলীয় প্রতিযোগিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের স্থান পুনরুদ্ধারের জন্য বিএনপিকে অধ্যাদেশকে সংসদে অনুমোদন না দিয়ে ৩০ দিন পর ল্যাপস হতে দেওয়া উচিত।
এই পোস্টটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণের পর নতুন সরকারের অবস্থান নিয়ে। আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এটিকে গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান হিসেবে দেখছেন, যখন অন্যরা এটিকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা বলে মনে করছেন।আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে জানানো হবে।
