খুরশেদ এ বাবলু
‘১৯৭১ সালের ২৫/২৬ শে মার্চ জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম বন্দরের সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করতে গেলে জনতার প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ায় ফিরে আসেন। এরপর চট্টগ্রাম সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলামের নিকট ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর “ অপারেশন সার্চলাইটের “ গনহত্যার খবর পেয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে রেখেই মেজর জিয়া বোয়াল মারি চলে যান। বেগম খালেদা জিয়া ‘১৯৭১ সালের জুন মাস থেকে ‘১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-এ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর জেনারেল জানজুয়ার তত্ত্বাবধানে ছিলেন। মেজর জিয়া চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বেগম খালেদা জিয়া ‘২৬ শে মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত কোথায় ছিলেন ? চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকা গেলেন কেউ জানে না। যুদ্ধের সময় মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে পালালো, দুই কোটি মানুষ শরণার্থী হিসেবে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিল আর বেগম জিয়া ঢাকায় গিয়ে জানজুয়ার হাতে বন্ধি হলেন ! ভারতের মুক্তান্চল থেকে সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান ‘১৯৭১ সালে মেজর ( অবঃ) হাফিজকে ( ১৯৮৬ সালের তত্কালীন জাপা ও বর্তমান বিএনপি নেতা ) গোপনে দুইবার ঢাকায় পাঠালেন বেগম জিয়াকে ভারতে নিয়ে আসার জন্য, কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া আসলেন না। ‘১৯৯১ সালে বাংলাদেশের রাস্ট্র ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী হয়ে কেনো ‘১৯৭১ সালে যার হাতে বন্ধি ছিলেন, সেই পরাজিত পাকিস্তানি জেনারেল জানজুয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করলেন এবং পাকিস্তানের সরকারের নিকট ( নিউজপেপারে প্রকাশিত ) শোকবার্তা পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, কেনো ? আজ ৫৫ বছর পরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ( প্রয়াত ) হলেন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা। সাবাশ বাংলাদেশের বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়রের মন্ত্রী আহমদ আজম খান এগিয়ে যাও…..!!
লেখক: মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, নিউইর্য়ক, আমেরিকা।
