দেশের বেসরকারী স্কুল পরিচালনা কমিটির (ম্যানেজিং কমিটি) সভাপতি হিসেবে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতেই আগের নিয়ম বাতিল করা হয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী।
বিএনপি সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যসহ বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাখাতের নীতিনির্ধারকরা।
রাশেদা কে চৌধুরী আরো বলেন, শিক্ষা অবশ্যই একটি রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের বিষয়। তবে তা কোনোভাবেই দলীয় এজেন্ডায় পরিণত করা উচিত নয়।Politics
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৭ সালে করা একটি রিটের পর হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা আপিল বিভাগও বহাল রেখেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই রায়ে বলা হয়েছে, কোনো দলীয় ব্যক্তিকে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করা যাবে না। যদি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আমরা আবার আদালতে রিট করব। এটা হতে দেবনা।
রাশেদা কে চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘দেশের প্রায় সব এলাকার প্রবীণ বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই কোনো না কোনোভাবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। তারাই এসব কমিটিতে নেতৃত্বে থাকেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাজনৈতিকভাবে পরিচিত হওয়া আর দলীয় পদে থাকা এক বিষয় নয়। কেউ যদি কোনো রাজনৈতিক দলের পদে থাকেন, তখনই প্রশ্ন তৈরি হয়।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ঈদের পর সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতিমালা নির্ধারণ করা হবে। আশা করি শিক্ষার উন্নয়নে আমরা যথাযত ব্যবস্থা নিতে পারবো।
