পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লেবার পার্টির মেয়র প্রার্থী কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমানের এর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চলা ব্যর্থতা ও অনিয়মের কারণেই সরকার এখন ধৈর্য হারিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার প্রচারিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারের পক্ষ থেকে ‘বেস্ট ভ্যালু’ পরিদর্শনের মাধ্যমে কাউন্সিলকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় অবশেষে সরকার হস্তক্ষেপ আরও বাড়িয়েছে এবং কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা কার্যত মেয়রের হাত থেকে সরিয়ে নিয়েছে।
সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, এই নতুন হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এখন কাউন্সিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে এবং মেয়রের তত্ত্বাবধানে থাকা ওভারসাইট বোর্ড বাতিল করে নতুন বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যেখানে তার কোনো ভূমিকা নেই। তার মতে, এটি প্রমাণ করে যে বর্তমান নেতৃত্ব প্রশাসনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের ওপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের বিশেষ এনভয়রা এখন কাউন্সিলের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত করবেন। এর মধ্যে রয়েছে—কীভাবে চাকরি ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, কীভাবে সামাজিক আবাসন বণ্টন করা হয়েছে, কীভাবে অনুদান বিতরণ হয়েছে, এবং প্ল্যানিং ও লাইসেন্সিং সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে নেওয়া হয়েছে। এমনকি মেয়রের নিজস্ব কার্যালয়ের কার্যক্রমও এই তদন্তের আওতায় আসবে।
নেতৃত্বের ধরন নিয়ে কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এনভয়দের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এস্পায়ার মেয়র লুৎফুর রহমানের-এর প্রশাসন বাস্তব সমস্যা সমাধানের বদলে ‘ইমেজ ম্যানেজমেন্টে’ বেশি মনোযোগ দিয়েছে, যার খেসারত দিতে হয়েছে সাধারণ বাসিন্দাদের।
আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সরাসরি মোকাবিলা করবেন এবং টাউন হলে বিদ্যমান অস্থিরতা দূর করবেন। তার ভাষায়, “টাওয়ার হ্যামলেটস আরও ভালো কিছু প্রাপ্য।”
