ইঞ্জিনিয়ার শেখ শাহের আলী
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার নতুন বারুদের গন্ধ! ইরানের জাতীয় টেলিভিশনে (আইআরআইবি) দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোর্তেজা সিমিয়ারি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, তেহরান এখন বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলরেখা দখলে নেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
তবে এই নীতির সমালোচনা করে সাবেক ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেরার্ড আরাউড মন্তব্য করেছেন, এটি আসলে এমন একটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো, যারা আমিরাতের স্বার্থের তোয়াক্কা না করেই তাদের এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মাঠের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান কেবল মার্কিন ঘাঁটি নয়, বরং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত একাই ৩৩৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১,৭৪০টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
এক সময় সৌদি আরব এবং আমিরাত যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও, বর্তমানে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধের সুরেই সুর মেলাচ্ছে। রিয়াদ ইতিমধ্যেই তায়েফের কিং ফাহদ বিমানঘাঁটি মার্কিনীদের জন্য খুলে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আর সংযুক্ত আরব আমিরাত তো এক ধাপ এগিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানিয়েছে, তারা আগামী ৯ মাস পর্যন্ত এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত এবং যুদ্ধ থামানোর জন্য ওয়াশিংটনকে কোনো চাপই দেবে না।
সব মিলিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাতাস এখন কেবল তপ্তই নয়, বরং এক ভয়াবহ আঞ্চলিক পরিবর্তনের অপেক্ষায় স্তম্ভিত হয়ে আছে।
