আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্ত অবৈধ প্রজ্ঞাপনটির বিরুদ্ধে আদালতে উত্থাপিত সাম্প্রতিক রিট আবেদনটি নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে হেয় করার এবং অবৈধ নিষেধাজ্ঞাকে আইনি বৈধতা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও বর্তমান অবৈধ বিএনপি-জামায়াত-ইউনূস চক্রের একটি সুপরিকল্পিত নীল নকশা।
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের মো. আল আমিন নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করানো হয়। এতে আওয়ামী লীগের ওপর জারিকৃত বেআইনি প্রজ্ঞাপনটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় (৬০ নম্বর ক্রমিকে) আবেদনটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত ওইদিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আওয়ামী পন্থী আইনজীবীদের মতে, এই রিট আবেদনের সাথে আওয়ামী লীগের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি পুরোপুরি ইউনূস গং ও তাদের দোসরদের সাজানো নাটক। এর নেপথ্যে মূল উদ্দেশ্যসমূহ হলো আইনি ফাঁদে ফেলে নিষেধাজ্ঞা বৈধ করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, বিদ্যমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারা অনুযায়ী যেকোনো আদেশের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রিভিউ কমিটিতে আবেদনের নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সরাসরি রিট আবেদন আইনি প্রক্রিয়ার ভুল প্রয়োগ হওয়ায় তা আদালত কর্তৃক খারিজ (Reject) হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে। আর এটি খারিজ হলে ইউনূস সরকার প্রচার করার সুযোগ পাবে যে আদালত প্রজ্ঞাপনটিকে বৈধতা দিয়েছে। এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিট খারিজ করিয়ে আওয়ামী লীগের প্রকৃত ও কার্যকর আইনি লড়াইয়ের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দেওয়াই এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য।
৫ আগস্টের পর থেকেই বিচার বিভাগে যেসব বিচারপতি সরকারের অনুগত ভূমিকা পালন করছেন, তাদের বেঞ্চে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলাটি পাঠানো হয়েছে যাতে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ না দিয়ে আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেওয়া যায়।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধানকে তোয়াক্কা না করে গঠিত ইউনূস সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দোহাই দিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের মতপ্রকাশ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যে বিধিনিষেধ আরোপ করে, যা বিশ্বজুড়ে নিন্দিত হয়েছে।(আওয়ামীলীগ পেইজ)
