“ইহাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছেন, যার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।“
–শেখ মুজিবুর রহমান, ২৬ মার্চ, ১৯৭১।
২৬শে মার্চ, ১৯৭১ইং, প্রথম প্রহরে ঘোষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই বার্তা ওয়ারল্যাসে ছড়িয়ে পড়ার পরক্ষণেই জন্ম নেয় আমাদের বাংলাদেশ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি দেশবাসী এবং প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর অদম্য নেতৃত্বে আমরা অর্জন করেছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসারির যোদ্ধা, ত্রিশ লক্ষ শহীদ এবং নির্যাতনের শিকার লক্ষ লক্ষ মা-বোন এবং সকল পর্যায়ের সংগঠকদের।
আজ এক কঠিন ও দু:সময়ের মধ্য দিয়ে দেশ অতিবাহিত হচ্ছে। দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমরা যখন দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাচ্ছিলাম, ঠিক তখনই দেশি-বিদেশি অপশক্তির মদদে আমাদের সকল অর্জনকে ম্লান করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে সেই পুরানো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি।
কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, বাঙালি জাতি কোনোদিন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি। ১৯৭১ সালে জাতির পিতার নেতৃত্বে বাংলার আপামর জনতা যেভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল, আজও সেই একই তেজ ও দেশপ্রেম নিয়ে বাংলার মানুষ জেগে উঠবে। কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের স্তব্ধ করতে পারবে না। বাংলার মানুষ আবার ঐক্যবদ্ধ হবে এবং সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আমরা আবারও বিজয় অর্জন করব। ইনশাল্লাহ।
সবাইকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।আঁধার কেটে ভোর হোক বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
