ইরান দীর্ঘদিন ধরেই ডলারের বিরোধিতা করে আসছে। হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে এবার ডলারের রাজ পতনের ছক কষেছে ইরান। ইরানের অর্থনৈতিক কমিশনের সদস্য রাসুল বাখশি দাস্তজেরদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী হচ্ছে ডলারের আধিপত্য ভাঙ্গার জন্য আমাদের লোহার হাতুড়ি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাশবিক হামলার কঠিন মুহূর্তেও হরমুজ প্রণালীর দখল ছাড়েনি ইরান। এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা রীতিমতো ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র চাইলেও সর্বাত্মক যুদ্ধ দীর্ঘদিন চালিয়ে যেতে পারবেনা। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী দখল করতে ব্যার্থ হওয়া মানে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় লিপিবদ্ধ হয়েছে। ইরান বুঝতে পেরেছে এখন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে বন্ধের সমঝোতায় আসতে চাইবে। আর তখনই ইরান সংলাপে বসতে ইচ্ছুক নয়। ইরান জানে এ যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে ততই ইরানের জন্য ফলপ্রসূ।
তেলের অভাবে প্রতিটি দেশেই হাহাকার অবস্থা বিদ্যমান করছে। দেশের অর্থনীতি ও জনসাধারণের জীবনে স্বস্তি ফিরে আনতে দেশগুলোর দায়িত্বরত সরকার যেকোনো মূল্য তেল চায়। পশ্চিমা মিডিয়াসহ বিশ্বের শীর্ষ মিডিয়াগুলো দাবি করছে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল কিনতে দিবে যদি দেশগুলো ইরানি মুদ্রা কিংবা চীনা মুদ্রায় পরিশোধ করে। এই গুঞ্জনটি যদি বাস্তবিক রূপ ধারণ করাতে পারে তাহলে এটি নিশ্চিতরূপেই বলা যায় ডলারের বাজার পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইরান রণক্ষেত্রের কৌশল ধরে রেখে সে পথেই এগুচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র কি পারবে হরমুজ প্রণালী দখল নিতে? হরমুজ প্রণালী দখল নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পথ আপাতত খোলা নেই। যুদ্ধের সামগ্রিক অবহ বলছে একমাত্র ইসরায়েল ব্যাতিত কেউই প্রত্যক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা দিয়ে সাহায্য করছেনা। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দখল নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দূর্ভেদ্য সাগর পাঁড়ি দেওয়ার মতো অভেদ্য কঠিন ব্যাপার।
