লুসিড ড্রিম
চিকিৎসার জন্য বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল যখন স্ত্রী সহ সিঙ্গাপুর চিকিৎসা ও ঘুরতে যায় তখন দুই বছর পর সেইদিন সংবাদ আসে, ” স্পীকার শিরিন শারমিন চৌধুরী” কে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।এই দুই বছর তিনি কোথায় ছিলেন?
২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর হঠাৎ একটি ভুয়া পদত্যাগপত্র দেখিয়ে বলা হলো , স্পীকার পদত্যাগ করেছেন।তার পর থেকে তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই পদত্যাগপত্র ইউনূস সরকার কোথায় পেলো?
শিরীন শারমিন চৌধুরী বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার ছিলেন।তার বাবা ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সচিব রফিক উল্লাহ আর মা ছিলেন ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ। শিরীন শারমিন ফখরুলের মতো রা*জাকা*র চখা মিয়ার পুত্র ছিলেন না। বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য পরিবারে নৈতিকতা , মনূষ্যত্ব ও দেশপ্রেমের শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছেন এই মানুষটি। ১৯৮৩ সালে ঢাকা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম হন। এইচএসসিতে সমগ্র বাংলাদেশে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও ১৯৯০ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম – এ ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হন। তিনি একজন কমনওয়েলথ স্কলার। যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।১৯৯২ সালে সুপ্রিমকোর্টে আইনজীবী হিসেবে যোগ দিয়ে ১৫ বছর এডভোকেট হিসেবে কাজ করেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন। এমন একজন মেধাবী ও সম্মানিত মানুষকে দুই বছর কোথায় আটক রেখেছিল ইউনূস সরকার?
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের সরকার শপথ নেওয়ার আগে থেকেই তারেক ও জামায়াত স্পীকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর অবস্থান সম্পর্কে জানতো।আজ এপ্রিলের ৭ তারিখ। ৫ আগষ্ট থেকে আজ পর্যন্ত স্পীকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর উপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।আজ থেকে দুই বছর আগের শিরীন শারমিন চৌধুরী আর আজকের শিরীন শারমিন চৌধুরীর দিকে তাকালেই আপনারা এসব স্পষ্ট বুঝতে পারবেন। গণতন্ত্র রক্ষার নাম দিয়ে যারা গদি দখল করেছে, সমগ্র বাংলাদেশে মব সন্ত্রাস চালিয়েছে তাদের পক্ষে সব সম্ভব। ইউনূস, তারেক ও জামায়াত মুলত মানুষের বেশে হায়েনা। তাদের গত দুই বছরের সকল অপকর্মের সাক্ষী বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ।
বাংলাদেশের এলিট শ্রেণীর নারীদের মধ্যে সবচেয়ে সজ্জন , শিক্ষিত , সভ্য , মিষ্টিভাষী ও মেধাবী এই মানুষটিকে দিনের পর দিন আটকে রেখে যেভাবে অত্যাচার করা হয়েছে তা গণতন্ত্র হ*ত্যা ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একজন সাবেক স্পীকার যদি রাষ্ট্রের কাছে নিরাপদ না থাকেন , তবে সে রাষ্ট্র নব্য হিটলারের নাৎসি শাসনব্যবস্থা ছাড়া আর কিছুই নয়।
শিরীন শারমিন চৌধুরীর অপরাধ তিনি এত মেধাবী হয়েও আওয়ামীলীগ করেন।২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর বলা হলো, স্পীকার শিরিন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন।৩ অক্টোবর প্রচার করা হলো , স্পীকার তার স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেন সহ আগারগাঁওয়ে সাধারণ ই – পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর দৈনিক রূপান্তর সহ বাংলাদেশের অনেক পত্রিকা সংবাদ করলো, পলাতক শিরীন শারমিন চৌধুরীকে খুঁজছে পুলিশ ‼️তার লাল পাসপোর্ট বাতিল করলো ইউনূস সরকার।৫ আগষ্ট শিরীন শারমিন চৌধুরী ঢাকায় অবস্থান করলেও রংপুরের শ্রমিক মুসলিম উদ্দিন ( ৩৮ ) হত্যার মিথ্যা আসামি বানানো হলো তাকে।আজ প্রায় দুই বছর পর ডিবি পুলিশ দিয়ে তাকে তার নিজ বাসা থেকে হাস্যকর নাটকের অভিযান প্রচার করা মানবতা ও মানুষের নাগরিক অধিকারের সাথে মশকরা ছাড়া আর কিছুই নয়। বাংলাদেশের মানুষের বিবেক পর্যন্ত পচে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। মানবাধিকার যেন আজ যাদুঘরে।এসব কি বিশ্ব মানবতার সাথে তামাশা নয় ⁉️
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭৮ (১২) অনুযায়ী ,
স্পীকার হচ্ছেন জাতীয় সংসদের অভিভাবক।২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সংসদ শপথ না নেওয়া পর্যন্ত তিনিই বাংলাদেশের নির্বাচিত অভিবাবক ছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী , নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ তার হাতেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।১৯৭৭ সালে যারা হ্যাঁ ও না গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র হত্যা করেছিল, ২০২৬ সালে তারা আবারও হ্যাঁ ও না গণভোট ও কারচুপির সমঝোতার নির্বাচনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মুচলেকা দিয়ে গণতন্ত্র , মানবাধিকার ও সংবিধান হত্যা করেছে।এই যেন বঙ্গবন্ধুকে হ*ত্যা করে আমেরিকার পুতুল সরকার জিয়াউর রহমানের ” খাল কেটে কুমির আনা” পথেই আবার ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমেরিকার আরেক পুতুল সরকার ” বিএনপি ও জামায়াত সরকার।”
২০০১ সালে বিএনপি ও জামায়াত সরকার গঠনের পর ২০০৯ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পীকার ছিলেন বিএনপির ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পরও বিএনপি জামায়াতের স্পীকার বহাল তবিয়তে বাংলাদেশে ছিলেন।২০১৮ সালে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে নওশাদ জমির শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড় আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচন করেছেন।লন্ডনে বসেই তারেক রহমান তাকে প্রার্থী করেছিলেন। শেখ হাসিনার এসব মহানুভবতার জবাব আজ তারেক রহমান এভাবে দিচ্ছে।
তারেক রহমানের পিতা জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে বলেছিলেন, ” I will make politics difficult for the politicians .( রাজনীতিবীদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে দিবো।) তার পিতা জিয়াউর রহমান কোনকালেই বাংলাদেশের কোন রাজনীতিবিদ ছিলেন না।এই দেশের ২৩ বছরের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস তার পিতার কোন রাজনৈতিক অবদান নেই। মূলত মুক্তিযুদ্ধের ৭ বছর পর ক্যান্টনমেন্টের পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল করে বিএনপি নামক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে জিয়া গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের রাজনীতি ধ্বংস করে বলেছিলেন , ” মানি ইজ নো প্রবলেম ” । কারণ তার পেছনে শক্তি হিসেবে ছিলো তৎকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট। সোভিয়েত ইউনিয়নকে কোনঠাসা করার জন্য বাংলাদেশে মার্কিন ডিপস্টেট কোনদিন রাজনীতি করা জিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলো।এরপর ৭৪ এর আমেরিকার ফুড পলিটিক্স দুর্ভিক্ষের রাজনীতি ও ৭৭ সালে সেই PL -480 খাদ্য জাহাজ ও ৮৬ মিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা জিয়াকে দিয়েছিল আমেরিকা।শুধু তাই নয়, আমেরিকার হোয়াইট হাউসে বাংলাদেশের প্রথম আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল জিয়াউর রহমানকে।আজ সেই জিয়ার পথ ধরে মার্কিন ডিপস্টেটের আরেক গুপ্তচরের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তারেক রহমান।যার বিরুদ্ধে একটা সময় ” ইন্টারপোল ” গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল সেই মিষ্টার টেন পার্সেন্ট আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ‼️ মেধাবী ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবীদদের জন্য জিয়াউর রহমানের মতো তারেক জিয়াও রাজনীতি কঠিন করে দিবেন।এই দেশে রাজনীতি করবে শিশু সংসদ , সংসদ হবে জাতীয় মাদ্রাসা। স্পীকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর মত এসএসসিতে প্রথম স্থান ও এইচএসসিতে দ্বিতীয় স্থান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম – এ ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়া শিরীন শারমিন চৌধুরীর মতো মানুষের রাজনীতি করাই তো এই দেশে সবচেয়ে বড় পাপ। একটি দেশ ও জাতির সাথে এর চেয়ে হাস্যকর উপহাস আর কি হতে পারে ⁉️
সত্য সবসময় সুন্দর।
