কবির য়াহমদ
হিসেবের বাইরে থেকে এমন কিছু ঘটনা ঘটছে, যা আওয়ামী লীগকে ক্রমে ‘অপ্রতিরোধ্য’ করে তুলতে যাচ্ছে। মাসের পর মাস জেলখানায় লাখ লাখ নেতাকর্মী, দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞার স্থায়িত্ব দেওয়া— এগুলো দলটিকে দমিয়ে রাখার জন্য করা হলেও, আদতে এগুলো তাদের শক্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জেলখানা আজ আওয়ামী লীগের জন্য এক বিশাল ‘ট্রেনিং গ্রাউন্ড’। দীর্ঘ কারাবাস নেতাকর্মীদের দলের প্রতি নিবেদন বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সবচেয়ে বড় কথা—তাদের মন থেকে জেল ও জুলুমের ভয় মুছে দিয়েছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে দুর্বলও যেখানে দুরন্ত শক্তিমান হয়ে ওঠে, সেখানে রাজনীতির মাঠে পোড় খাওয়া এই কর্মীরা যখন জেল থেকে বেরিয়ে আসবে, তখন তাদের রুদ্রমূর্তির সামনে কোনো বাঁধই টিকবে না।
ফ্যাসিস্ট ইউনূস রেজিমের অগণতান্ত্রিক পথ ধরে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমকে জবরদস্তি করে বন্ধ করে রেখেছে বিএনপি সরকার। অথচ এই দলটির নেতারা দাবি করেন তাদের নেতা জিয়াউর রহমান নাকি ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটা যতটা বাস্তবতা তারচেয়ে বেশি মিথ। আওয়ামী লীগকে নিয়ে তারেক রহমানের সরকারের এই ‘হার্ডলাইন’ নীতি মূলত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর এবং নতুন করে সংগঠিত হওয়ার এক তাগিদ তৈরি করে দিয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলের প্রতি নিবেদনকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে। সংসদ সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার পর সামাজিক মাধ্যমে ‘ডিজিটাল রিভোল্ট’ হয়েছে। “আমিই আওয়ামী লীগ” নামে যে প্রোফাইল ফটোফ্রেম-এর জোয়ার দেখলাম আমরা, এটাকে আওয়ামী লীগের ‘নবজাগরণ’ বললে কি বেশি বলা হয়ে যাবে?
খেয়াল করলে দেখবেন এই ফটোফ্রেম কেউ কিছু পাওয়ার আশায় করেনি। বরং এটা ফেসবুকে সাঁটিয়ে দিয়ে তারা নিজেরা নিজেদেরকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে জেনেও কাজটা করেছে। জেনে-বুঝে এই ঝুঁকি নেওয়া প্রমাণ করে যে, নিবেদন এখন আর কোনো প্রাপ্তির আশায় নয়, বরং আদর্শিক অস্তিত্ব রক্ষার চরম পর্যায়।
এটা আওয়ামী লীগের দলীয় কোন কর্মসূচি ছিল না। তাহলে এত এত মানুষ কেন একই পদ্ধতিতে ‘ডিজিটাল রিভোল্ট’ করল? ভেবেছেন কখনও?
ভাবেননি।
তাই জেনে রাখুন— যা ঘটছে ক্ষমতার চশমা-চোখে তার কিছুই আপনি দেখছেন না; যা দেখছেন বিপরীতে ঘটছে তার অন্য কিছু!
