১৩ কোটি মানুষ। বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা। মাত্র একটি নির্বাহী আদেশ। যুক্তরাষ্ট্র গত ৫০ বছর ধরে যে বিষয়টি নিয়ে কেবল তর্ক-বিতর্কই করে গেছে, মেক্সিকো মাত্রই সেটি বাস্তবায়ন করে দেখাল।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন, যার মাধ্যমে একটি ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা’ (Universal Health Service) চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো মেক্সিকোর ১৩ কোটি নাগরিকের সবাইকে—তাদের কর্মসংস্থান বা বীমার অবস্থা যেমনই হোক না কেন—যেকোনো সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। শেইনবাম এই পদক্ষেপকে “একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে, এর মূল লক্ষ্য হলো “যেকোনো মেক্সিকান নাগরিক যেন যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে যেকোনো শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন।” নতুন ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র’-এর জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে; প্রাথমিকভাবে ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের নিবন্ধনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এই পরিকল্পনার আওতায় মেক্সিকোর বিদ্যমান তিনটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে—IMSS, ISSSTE এবং IMSS-Bienestar—একীভূত করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ সেবা একীভূতকরণের প্রথম ধাপটি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে এবং ওই বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিশেষায়িত সেবাগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হবে। এই সেবার আওতাভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে জরুরি চিকিৎসা সেবা, হাসপাতালে ভর্তি ও অবস্থানকালীন সেবা, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার চিকিৎসা, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের চিকিৎসা, ক্যানসার ও কিডনি রোগের চিকিৎসা এবং টিকাদান কর্মসূচি। শুধুমাত্র নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জন্যই সরকার প্রায় ১৯ কোটি ৮৮ লক্ষ ডলারের বাজেট বরাদ্দ করেছে।
ওয়েন্ডেল পটার—একজন সাবেক বীমা নির্বাহী, যিনি পরবর্তীতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বা সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার একজন সোচ্চার প্রবক্তায় পরিণত হয়েছিলেন—তিনি মেক্সিকোর এই পদক্ষেপকে “একইসাথে অনুপ্রেরণাদায়ক ও হতাশাজনক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ঠিক এর বিপরীত দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। অন্যদিকে, মেক্সিকোর সমালোচকরা ওষুধপত্রের সংকট এবং হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ বা সক্ষমতার অভাবের কথা উল্লেখ করে যুক্তি দিচ্ছেন যে, দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই তার ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে।
