[ব্রাসেলস, বেলজিয়াম | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬]
ইউরোপে বসবাসরত এবং নতুন করে আসতে ইচ্ছুক প্রবাসীদের জন্য এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘নতুন মাইগ্রেশন এবং আশ্রয় চুক্তি’ (New Pact on Migration and Asylum) বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সময়সীমা ঘনিয়ে এসেছে। ২০২৬ সালের জুন মাস থেকেই ইউরোপের ২৭টি দেশে এই অভিন্ন ইমিগ্রেশন আইন পুরোপুরি কার্যকর হতে যাচ্ছে। বর্তমানে এপ্রিল মাস চলায় প্রতিটি দেশ তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়মগুলো এই নতুন আইনের সাথে সমন্বয় করার কাজ শেষ করছে।
📍 বিভ্রান্তি এড়াতে নতুন আইনের মূল ৫টি তথ্য সহজভাবে বুঝে নিন:
১. এক দেশে আঙুলের ছাপ দিলে দেখবে সবাই (ইউরোড্যাক):
নতুন আইনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ডাটাবেস। আপনি ইউরোপের যেকোনো দেশে (যেমন ইতালি বা গ্রিস) একবার আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক তথ্য দিলে, তা মুহূর্তেই পুরো ইউরোপের ২৭টি দেশের ইমিগ্রেশন সার্ভারে চলে যাবে। ফলে পরিচয় গোপন করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে নতুন করে আবেদনের সুযোগ আর থাকছে না।
২. বর্ডারে দ্রুত সিদ্ধান্ত (৭ দিনের স্ক্রিনিং):
ইউরোপের সীমান্তে পৌঁছানোর পর এখন আর মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হবে না। মাত্র ৭ দিনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষ করা হবে। যারা আইনিভাবে থাকার যোগ্য, তাদের আবেদন দ্রুত গ্রহণ করা হবে এবং যারা অযোগ্য, তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
৩. আশ্রয় (Asylum) প্রক্রিয়ায় ১২ সপ্তাহের ডেডলাইন:
যাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন যুক্তিসঙ্গত নয়, তাদের মামলাগুলো সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। এটি করা হচ্ছে যাতে ভুয়া আবেদনের জট কমে এবং প্রকৃত বিপদগ্রস্ত মানুষ দ্রুত সুরক্ষা পায়।
৪. ইউরোপীয় সংহতি ও দায়িত্ব ভাগাভাগি:
এখন থেকে শুধু ইতালি বা গ্রিস একা অভিবাসীদের চাপ নেবে না। নতুন আইন অনুযায়ী, ইউরোপের প্রতিটি দেশ নির্দিষ্ট সংখ্যক অভিবাসীর দায়িত্ব নিতে বাধ্য থাকবে। কোনো দেশ নিতে অস্বীকার করলে তাদের আর্থিক জরিমানা বা অন্যভাবে সহায়তা করতে হবে। এতে করে দেশগুলোর মধ্যে কাজের চাপ সমানভাবে ভাগ হবে।
৫. মানবিক সুরক্ষা ও শিশুদের অধিকার:
নতুন নিয়মে নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা এবং আইনি সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ডিটেনশন বা আটকে রাখার নিয়ম শিথিল করে তাদের দ্রুত নিরাপদ পরিবেশে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
