ঢাকা, ১৮ এপ্রিল ২০২৬: কথাসাহিত্যিক ও লেখক আনিসুল হক তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে অভিযোগ করেন, বঙ্গবন্ধুর বই না থাকায় সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ফাইল আটকে দিয়েছিলেন।
এর জবাবে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পাল্টা পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “আনিসুল হক সাহেব, আপনি যা জানেন তার হয়তো সবটাই সত্য নয়।”
নওফেল বলেন, শুধু বঙ্গবন্ধু বা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইয়ের বিষয় নয়। ‘রিডিং হেবিট’ প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন (অ্যাসেসমেন্ট) থেকে দেখা গেছে যে, প্রকল্পের অধীনে অধ্যাপক আবু সাইদের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ঢাকায় বিশাল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কার্যালয়ের খরচ, কনসালটেন্সি ফি ইত্যাদিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তেমন কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
তিনি আরও লেখেন, ঢাকাকেন্দ্রিক কিছু কার্যক্রম দেখে রাজধানীর এলিট শ্রেণির মনে প্রশান্তি আসলেও বাস্তবতা ভিন্ন। প্রতি বছর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র প্রায় ৪০-৫০ কোটি টাকা (কমবেশি) নিয়ে যেত। সরকারের প্রস্তাব ছিল, এই অর্থ জেলা পর্যায়ের পাঠাগারগুলোতে বণ্টন করলে সারা দেশে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার বাস্তব পরিবর্তন দেখা যেত। জেলার পাঠাগারগুলো বিদ্যালয় পর্যন্ত সহজেই পৌঁছাতে পারে, যাতে রিচ বেশি হয়, খরচ কম হয় এবং প্রভাবও অনেক বেশি হয়।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের অভিযোগ, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মূল কার্যালয় ঢাকায়। সেখান থেকে প্রচুর টাকা নেওয়া হতো, কয়েকটি জেলা শহরে সীমিত কার্যক্রম, বিশাল এনজিও কাঠামো এবং বাসে করে বই নিয়ে ‘শো-ডাউন’ চলত। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ প্রভাবের জন্য এই মনোপলি ভাঙা এবং প্রকল্পকে বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন ছিল। প্রকল্পের বাইরেও কেন্দ্রটি অনেক টাকা পেত, কিন্তু যথাযথ ব্যবহার হতো না। সাবেক কিছু প্রভাবশালী আমলা ও তথাকথিত সুশীল সমাজের একটি বলয় এই অর্থের প্রবাহ অব্যাহত রাখতে তদবির করত।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের কাছে সহজে পৌঁছানোর জন্য প্রথম আলো বা ডেইলি স্টার মডেলের লোক দেখানো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট দিয়ে পাঠাভ্যাস গড়ে ওঠে না। এই সুপারিশ এসেছে প্রকল্পের ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্টকারীদের কাছ থেকে।
অধ্যাপক আবু সাইদকে সম্মান জানিয়ে সাবেক এই শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “জনাব আব্দুল্লাহ আবু সাইদ সাহেব বয়স্ক মানুষ। আমি তাঁর ব্যাপারে মন্তব্য করব না।” তবে তাঁর আদর্শিক অবস্থান ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
নওফেল আরও লেখেন, “আলোকিত মানুষ গড়ার মিষ্টি কথা ও বড় বড় বক্তব্যের আড়ালে যদি কোটি কোটি টাকার হিসাব অস্বচ্ছ থাকে এবং কোনো ফল না আসে, তাহলে তার জবাব কে দেবে?”
তিনি নিজের দায়িত্ব স্বীকার করে বলেন, “আমি মন্ত্রী ছিলাম মাত্র ২০০ দিন। এই শুভংকরের ফাঁকি আটকাতে পারিনি। এটা আমার ব্যর্থতা।”
এই ফেসবুক বিনিময়ের মাধ্যমে ‘রিডিং হেবিট’ প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, প্রভাব এবং বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের চাপা বিতর্কটি আবার সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।(ফ্রিডম বাংলা নিউজ)
