কক্সবাজারের উখিয়ায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে ছৈয়দা বেগম (৪৮) নামে এক মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের থাইংখালী-থাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ছৈয়দা বেগম স্থানীয় শ্রমজীবী সাব্বির আহমদের স্ত্রী। পরিবার জানায়, তার ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুর রহমানকে রাজনৈতিক কারণে আটক করে মারধর করছিল ছাত্রদল ও যুবদলের সন্ত্রাসী নেতাকর্মীরা।
অভিযোগ উঠেছে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য মিজান সিকদার, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জিসান, শ্রমিক দল নেতা সাইফুল সিকদার, রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম, ছাত্রদল কর্মী আকাশ ও বিএনপি কর্মী সামসু আলম প্রকাশ অ্যাম্বুলেন্স সামসুসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত মিজান সিকদার ও জিসান বাবা-ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সপ্তাহখানেক আগে এলাকায় দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
থাইপালং এলাকায় দেওয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখার কারণে শনিবার রাতে বিএনপি ও ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুর রহমানকে তুলে নিয়ে যায় এবং বেদম মারধর শুরু করে। তাকে বাঁচাতে গেলে তার ভাই এনজিওকর্মী এসএম ইমরানকেও মারধর করা হয়।
পরে খবর পেয়ে ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান তার মা ছৈয়দা বেগম। এ সময় তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে নিহতের সন্তানেরা জানান, মিজান সিকদার, জিসান, আব্দুল করিম, সাইফুল সিকদার, আকাশ, শামসুল আলমসহ কয়েকজনের নেতৃত্বেই তাদের মাকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে মারধরের ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুর রহমানকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে বিএনপি বা ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীকে আটক করা হয়নি বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরীর দাবি, “খবর নিয়ে দেখেছি এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘরে পড়ে গিয়ে ওই নারী মারা গিয়ে থাকতে পারেন।”
তবে অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনকে তদন্তের অনুরোধ করেছেন বলেও জানান তিনি।
উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক উমেছিং মারমা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছে আব্দুর রহমানকে হেফাজতে নেয়। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই মারধরের ঘটনা ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, আব্দুর রহমানকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তবে কোন মামলায় তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা এক নারীর মৃত্যুর খবর পেয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
