▪️ পৃথিবীতে ইসলামের বয়স ১৪৫০ বছর ধরা হয়। কিন্তু বাঙালি নারীদের শাড়ি প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো। অসংখ্য ইসলামী চিন্তাবিদ বাংলাদেশের নারীদের শাড়ি , চুড়ি ও কপালে টিপ দেয়াকে বিধর্মীদের সংস্কৃতি বলে উল্লেখ করেন।এটা একটা জাতি ও সংস্কৃতির উপর আঘাত নয় কি?
এই প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ ও না দিয়ে দিবেন। কি না দিয়ে কী দিলে ব্যাখা করতেন। তাই ব্যাখায় যাবেন না।।
▪️ প্রাচীন মিশরের নারীরা ইসলাম পৃথিবীতে আগমনের প্রায় ৩ হাজার বছর পূর্ব থেকেই ক্যালিসিরিস নামক শরীরের সাথে লেপ্টে থাকা আঁটসাঁট গাউন পরতেন।আজ থেকে ২,৫০০ বছর আগেও গ্রীস ও রোমের নারীরা ঢিলেঢালা পোশাক পরতেন । এর কোন কিছুই ইসলামের সাথে যায় না। চীনের নারীদের কিপাও ও জাপানের নারীদের কিমোন নামক পোশাক পর্যন্ত ইসলাম বিরোধী। ইউরোপের করসেট , গাউন ও আফ্রিকার আবায়া কোন পোশাকই মুসলিম নারীদের জন্য সমর্থন করে না ইসলাম। অর্থাৎ পৃথিবীর ৪০০ কোটি নারীর মধ্যে শুধুমাত্র ১০০ কোটি নারীর জন্য ইসলামের বিধান তথা আলাদা পোশাক।।
এসব ভালোভাবে লক্ষ্য করলেই দেখবেন ইসলামে নারীদের পোশাকের স্বাধীনতা নেই। আপনি শাড়ি , থ্রি পিস পরলেও ওদের নুনুভুতি খাঁড়া হয়ে যায়।
👉 এসব নুনুভূতির ভাইরাসের কাছে বাংলাদেশের ৮ কোটি মুসলিম নারী আদৌ কতটুকু নিরাপদ?
♦️ ইসলাম নারীদের লিবারেল ফ্রিডম এর সম্পূর্ণ বিরোধী । হাদীসে আছে ,
” যে জাতি তাদের নেতৃত্ব কোন নারীর হাতে ছেড়ে দেয় , তারা কখনোই সফল হবে না।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য করলে দেখবেন জামায়াত ও হেফাজত থেকে একজন নারীকেও নমিনেশন দেওয়া হয়নি। নারীদের রাষ্ট্র পরিচালনা এরা সমর্থন করে না। কিন্তু ফাতেমা জিন্নাহ ও বেগম খালেদা জিয়ার আঁচল ধরে রাষ্ট্রক্ষমতার সাদের বিষয়ে এদের ইসলামি আইন রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে যায়।আরো আশ্চর্যজনক ভাবে লক্ষ্য করলাম , মোনামী ম্যাডাম ও মনিরা শারমিনদের দিয়ে জামায়াত রেডিক্যাল ইসলামের প্রচার করলেও কোনদিন কোন নারী জামায়াতের আমীর হতে পারবেন না। এমনকি চাইলেও একজন নারী মসজিদের ইমাম হতে পারবেন না।
👉 তার মানে ৮ কোটি বাঙালি মুসলিম নারী চাইলে জামায়াতের রাজনীতি করতে পারেন। কিন্তু যৌনদাসী এর চেয়ে বেশি কিছু কখনোই তাদের কপালে জুটবে না। হুজুররা আট বিয়া করলেও তার প্রতিবাদ করা যাবে না।মাদ্রাসা ও মসজিদে শিশুদের বলোতকার করলেও মায়েদের সন্তানদের সেখানে পাঠাতেই হবে!
অধিকাংশ ইসলামী হুজুর প্রচলিত জ্ঞান ও বিজ্ঞান শিক্ষার বিরোধী শুধু নন, তারা নারী শিক্ষার পর্যন্ত বিরোধী। এজন্য ৫ মে ২০১৩ সাল, শাপলা চত্বরে হেফাজতের আমীর মাওলানা শফী ( তেঁতুল হুজুর) বলেছিলেন ,
” পঞ্চম শ্রেণীর অধিক নারীদের লেখাপড়ার দরকার নেই।”
▪️ আপনার স্বামী যদি মুসলমান ও আপনি যদি মুসলিম নারী হন , তবে অধিকাংশ মুসলিম স্বামী তাদের স্ত্রীদের বাণিজ্য ও চাকরি করা সমর্থন করেন না।তার মানে নারী হয়ে মুসলিম সমাজে জন্ম নেওয়া আপনার জন্য অভিশাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
ইসলাম নারীদের শাসন সমর্থন করে না। এজন্য মুসলমানদের নির্যাতনের বলি হয়েছিলেন দিল্লী সালতানাতের প্রথম ও একমাত্র মুসলিম নারী শাসক রাজিয়া সুলতানা। তাদের নির্মম নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়।
▪️মামুলুক রাজবংশের সময় খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় ক্রসেডকে পরাজিত করে সফলতার সাথে মিশরের মসনদ সামলানো নারী মুসলিম শাসক শাজারাত আর – দূর মুসলমানদের নির্মম নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করেছিলেন । গণিত , দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় পারদর্শী নারীকে শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে খড়ম দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে মুসলিমরা।তখন খলিফা আল – মুস্তাসিম নারী শাসককে উপহাস করে মিশরের মানুষের কাছে বার্তা পাঠিয়ে বলেছিলেন ,
” যদি মিশরে কোন পুরুষ না থাকে , তবে আমাদের বলুন , আমরা পুরুষ পাঠাবো।”
▪️ মুসলিম নারী ড. রানা আল – তূনিসী শুধুমাত্র প্রগতিশীল মুসলিম নারী হওয়ার কারণে তাকে তার দেশছাড়া করা হয়েছে। সুলতানা হুররেমকে কূটনীতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে অটোমান মুসলিম শাসকরা মেনে নিতে পারেননি। তাই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিলেন উসমানীয় সাম্রাজ্যের শাসকরা। ইরাকের ইসলামি কবি আমিনা বিনতে আল- হুদাকে ইরাক থেকে নির্বাসিত করা হয়েছিল।
▪️গত ৪৭ বছরের ইরানের খোমেনি দুঃশাসনে নারী চিকিৎসক ড. ফাররোখরো পারসাকে বন্দি করে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে । নারী পদার্থবিজ্ঞানী মাহশিদ নিরুমান্দকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে ইরানের খামেনি সরকার। ভেটেরিনারি বিজ্ঞানী রয়া ইশরঘিকে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে খামেনি সরকার। সমাজবিজ্ঞানী শাহীন দালবন্দকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়।বিজ্ঞানী ও গবেষক ড. পারদিস সাবেতি ও মিনা বিসেলকে ইরানের খামেনি সরকারের নির্যাতনে চিরদিনের জন্য ইরান ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।১৯৮৮ সালে খোমিনি জেলখানার ভেতর শত শত নারী চিকিৎসক , বিজ্ঞানী ,নার্স ও বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছেন।
👉 ইসলামী শাসনের ইরান ও আফগানিস্তানে নারী বিজ্ঞানী ও গবেষক পয়দা হবে কোথা থেকে?
▪️ বাংলাদেশেও গত কিছুদিন ধরে ধর্ষণকে পুঁজি করে শরীয়া আইনের কথা বলা হচ্ছে। আফগানিস্তানের মত তলেবানি দেশে আইন করে বাল্যবিবাহ বৈধ করা হয়েছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জঙ্গি অভ্যুত্থানের পর নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার মুখে চুনকালি মেখে ” মাগী” লিখে দেয়া হয়েছে। মুসলিম দেশে নারীদের জন্ম নেওয়াই যেন আত্মহত্যা।সেই দেশে নারীরা মোল্লাদের ধর্ষণ আর মায়েদের সন্তানরা মাদ্রাসা ও মসজিদে গিয়ে হুজুরের বলোতকারের শিকার হবে এটাই বাস্তবতা। বাংলাদেশের নারীদের এইভাবে দিনের পর দিন ভয় দেখিয়ে বস্তায় ঢুকানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিন মা ও বোনদের ধর্ষণকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো হুদদ আইন করে যায়েয করে ফেলা হবে।এরা নারীদের পোশাক ও বাক স্বাধীনতার সম্পূর্ণ বিরোধী। কোন নারী প্রতিবাদ করলেই তাকে ইসলামের শত্রু বানিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা সবে। মুসলিম সমাজ ও রাষ্ট্র হলে নারীদের বাক স্বাধীনতা বলতে লোক দেখানো কিছু মিডিয়া ট্রায়াল ছাড়া আর কিছুই হতে পারবে না। মুসলিম রাষ্ট্রে কন্যা , নারী ও স্ত্রী হয়ে জন্মানোই যেন এক অভিশাপ। নাসায় কাজ করা বাঙালি মুসলিম বিজ্ঞানী লামিয়া মাওলারা খুব ভালো করেই জানেন , নারীদের জন্য বাংলাদেশ কতটা অনিরাপদ। তাই হয়তো বছরের পর বছর ধরে তারা বাংলাদেশের বাইরে নিজেদের নিরাপদ আবাস গড়ে তুলেছেন।
▪️ বাংলাদেশের হুজুররা যেভাবে দিনের পর দিন ওয়াজে নামে মাইক হাতে নিয়ে নারীদের পোশাক, শরীর ও নারী স্বাধীনতা নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য রাখেন, তাতে করে বাংলাদেশে নারী হয়ে জন্মানোই যেন এক আজন্ম অভিশাপ। গার্মেন্টসে নিজেদের পরিবারকে বাঁচানোর জন্য যে ২০ লাখ নারী কাজ করে তাদের বাংলাদেশের অধিকাংশ পুরুষ ” পতিতা” বানিয়ে দেয়। মুসলিম ছাড়াও অন্য ধর্মের নারীদের নিয়ে তারা যেভাবে উপহাস ও বিদ্বেষ ছড়ানো তা পৃথিবীর কোন সভ্য দেশেই সম্ভব নয়।
মুসলিম দেশের নারী ও বাস্তবতা – পর্ব:০১
সত্য সবসময় সুন্দর
লুসিড ড্রিম
