সুষুপ্ত পাঠক
ইউনুসের বদলে সত্যিকারের যদি কোন ভালো মানুষ ইন্টেরিম সরকারের প্রধান হতো তাহলে তিনি প্রথম যে কাজটি করতেন সেটি হলো, ২৪ এর ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিচারের সম্মুখীন করা। তার বদলে উল্টো তাদেরকে পুরস্কার স্বরূপ সচিবালায়ে বসানো হলো বিভিন্ন সেক্টর থেকে ঘুষ বাণিজ্য করতে। লাভজানক পদে বাসানো হলো। তারাই দেশের মালিক এমন একটা ভাব। বিএনপি সরকারও বাটপার ইনুসের অনুকরণ করে গেলো। ফলে কি হলো, কিছু হলেই এখন ‘ছাত্র আন্দোলনের’ সূচনা হচ্ছে। পুরো রাষ্ট্রীয় বিশৃঙ্খল থেকে রেজিম চেঞ্জ সব কিছুর ডিজাইনের শুরুতেই এরা থাকবে। যদি ২৪ এর ছাত্র-গুন্ডাদের বিচার হতো আর শিক্ষালয় ছেড়ে ক্ষমতা পরিবর্তনের লেজুর হওয়ার বিচার করা যেতো তাহলে এই প্রবণতা এখানেই শেষ হতো।
কেউ বলতে পারেন সব আন্দোলনই তো সফল হয়েছে ছাত্রদের হাতে। কথা সত্য। ছাত্ররা রাজনীতি করবে একশোবার। কিন্তু ‘সাধারণ ছাত্র’ ব্যানারে ‘অরাজনৈতিক’ পরিচয়ে শাহবাগের রাস্তা দখল করে শ্লোগান গালাগালি অবরোধ গুপ্ত মেটিাকুলাস ডিজাইনের অংশ। ছাত্ররা যে কোন ইস্যুতে রাজপথে নামুক। কিন্তু কি তাদের পরিচয়? সাধারণ ছাত্র মানে কি? কখনোই সাধারণ ছাত্ররা একজোট হয়ে কোন আন্দোলনে নামে না। এগুলোর পেছনে থাকে একটা অর্গানাইজড গ্রুপ। এদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য গুপ্ত থাকে। এটাই আপত্তির জায়গা। গুপ্ত রাজনীতির চির অবসান না ঘটালে কোন সরকারই টিকবে না। আজকে আপনি এদের দ্বারা খুশি থাকবেন আগামীদিনে এই একই পথে আপনার পতন হবে। এই ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয়ে মব হয়েছে। সারাদেশে শিক্ষকদের কলেজ স্কুল থেকে অপমান অপদস্ত করে নামিয়ে সেখানে জামাত শিবিরের লোকজনকে বসানো হয়েছে। এর বিচার না করে সেই অপশক্তিকে জারি রাখলে আজকে ‘মুরগি মিলন’ অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও নতুন ইস্যুতে এই ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয়ে গুপ্তরা সুঁই হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হবে।
২৪ এর ছাত্র-গুন্ডাদের ইন্ডেমিনিটি দিয়ে তাদের রাষ্ট্রবিরোধী ক্রাইমকে বৈধতা দেয়া বিএনপি সরকার তার নিজের পায়েই কুড়াল মেরেছে। ছাত্ররা রাজনীতি করবে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট কোন পরিচয়ে। ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ এই গুপ্ত ডিপস্টেট পরিচয়ে নয়।
সিস্টেম ভেঙে পড়লে কেউ রেহাই পায় না। ২৪ এর গুন্ডারা, রাজাকারের নাতিপুতিরা এই রাষ্ট্রের বেসিক সিস্টেম ভেঙে নৈরাজ্য কায়েম করেছে। ফলে এখানে আর সুস্থ কোন রাজনীতি কাজ করবে না। এদের বিচার করে একটি নজির স্থাপন না করলে এদের সাহস বাড়তেই থাকবে। আওয়ামী লীগ যদি ফেরে তাদের প্রথম কাজ হবে একটি সরকার (তা যেমমভাবেই নির্বাচিত হোক, বৈধ আইনীভাবে এই রষ্ট্রের সীল ছাপ্পর মারা ছিল)- তাকে নির্বাচন ছাড়া ও কোন দৃশ্যমান রাজনৈতিক আন্দোলন ছাড়া ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয়ে ফেলে দিয়ে রাষ্ট্রকে কয়েকদিন সরকারবিহীন রাখার জন্য কঠোর বিচার করা। এমনকি একটি সরকারকে সুরক্ষা দেয়া যে বাহিনীগুলোর দায়িত্ব ছিল তারা সেটি না করে যে নজির স্থাপন করেছে তার বিচার করা। দেখুন, বিএনপি ২৪ এর আওয়ামী লীগ সরকারকে যে সরকারী বাহিনীগুলোর সুরক্ষা দেয়ার শপথ ছিল সেটি না করে যে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছিল তার উপরই দাঁড়িয়ে আছে। এর মানে হচ্ছে আপনি রেজিম চেঞ্জের এই গুপ্ত সিস্টেমের উপরই আসলে এসে বসেছেন। কাল যে এরা আপনাকে সুরক্ষার আশ্বাস দিয়ে গোপনে ফেলে দিবে না তার কি গ্যারান্টি কি? জামাত শিবির কিন্তু চায় বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটির সমস্ত সিস্টেম ভেঙে পড়ুক এবং রাষ্ট্রটি ব্যর্থ হোক। বিএনপি সেই তাদেরকেই জুলাইয়ের নামে ঐক্য ধরে রাখার কথা মনে করিয়ে দেয়! নিজের পেছনটা কাঁচি দিয়ে এফোড় ওফোড় করার কী স্বোপার্জিত চেষ্টা!
-সুষুপ্ত পাঠক
১৬ জুলাই, ২০২৬
