৫ই আগস্টের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো গণ-আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল স্বাধীনতা বিরোধী চক্র, পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কুখ্যাত গোষ্ঠী এবং চিলড্রেন পার্টির অনুসারীদের এক সুপরিকল্পিত ও নারকীয় ‘জংলি হামলা’। যারা বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করে, সেই দেশদ্রোহী শক্তিগুলো মিলে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছে। তারা আমাদের দেশের রক্ষক হাজার হাজার পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে এবং সাধারণ মানুষকে গুলি করে মেরেছে। শত শত থানা লুট করে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গেছে। অথচ, এই রক্ষকদের হত্যাকারীদের কোনো বিচার তো দূরের কথা, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা পর্যন্ত করা হয়নি। এই জানোয়ারদের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে সেইসব বিদেশি এজেন্টের দালালরা, যারা স্বাধীন বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে মরিয়া। এদের প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে ফেলা হবে এবং বাংলার মানুষ এদের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এই দেশদ্রোহীদের অশুভ আস্তানায় যখন জনগণের টাকা লুট হয়, তখন তাদের ধৃষ্টতা দেখে মনে হয়—এরা কি আদৌ মানুষ? এরা মূলত শয়তানের দোসর যারা এতিমদের রক্ত খেয়ে বেঁচে আছে এবং দেশের প্রতিটি স্তম্ভ ধ্বংস করে নিজেদের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। এদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এই সন্ত্রাসীরা যে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তার চেয়েও বড় তামাশা শুরু হয়েছে এখন। এই জংলি ও সন্ত্রাসীদের কয়েকটা অনুসারী মারা গেছে—যাদের কর্মকাণ্ড ছিল রাষ্ট্রবিরোধী—তাদেরকে মহিমান্বিত করতে তথাকথিত শাসকরা গণভবনের মতো একটি পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাকে ‘জাদুঘর’ বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৮ কোটি মানুষের প্রশ্ন—গণভবন কি কোনো জংলি ও সন্ত্রাসীদের পৈতৃক সম্পত্তি? দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে কেন এই নরপশুদের ইতিহাস ঠাঁই পাবে? আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, ৩৩৭ কোটি টাকা ব্যয় করে গণভবনে জাদুঘর তৈরির প্রকল্প জনগণের সাথে সরাসরি রাষ্ট্রীয় বিশ্বাসঘাতকতা। এই টাকা আমাদের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকা, গণভবনের মালিকও এই দেশের ১৮ কোটি মানুষ। আমরা আমাদের ট্যাক্সের টাকায় কোনো সন্ত্রাসীর জয়গান গাইতে দেব না। যদি তাদের নিজেদের লোকের প্রতি এতই আবেগ থাকে, তবে তারা তাদের নিজেদের পৈতৃক ভিটা বিক্রি করে জাদুঘর বানাক। রাষ্ট্রের টাকায় দেশবিরোধীদের স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির দুঃসাহস বাংলার জনগণ মেনে নেবে না। এই জাদুঘর তৈরির নামে তারা মূলত নিজেদের অপকর্মের ইতিহাস ধামাচাপা দিতে চাইছে, কিন্তু বাংলার মাটি কি তা হতে দেবে? তাদের প্রতিটি পায়ের ছাপ মুছে ফেলা হবে, আর যে অশুভ আত্মা এই জাদুঘরের কারিগর, তাদের অশুভ নিশানাও ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে। এরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে, আর তাদের নাম উচ্চারিত হবে ঘৃণার সাথে।
এই দেশের বিবেক আজ স্তম্ভিত। ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তাঁর উপদেষ্টা মণ্ডলী, তথাকথিত সমন্বয়কারী এবং এই তিন পার্টির জোটবদ্ধ লুটেরা চক্র জনগণের আমানতের খেয়ানত করে যে অপরাধ করেছেন, তার ক্ষমা নেই। শুধু ৩৩৭ কোটি টাকা আত্মসাৎই নয়, ৫ই আগস্টের পর থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর এই সহযোগী লুটেরারা দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। এর মধ্যে ৬৬৬ কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ আজ জনগণের হাতে। মাতৃভূমিকে এতিম করে যারা দেশের সম্পদ লুট করেছে, তারা রক্তচোষা পরজীবী। তাদের পই-পই করে প্রতিটি অবৈধ সম্পত্তির হিসাব নেওয়া হবে এবং এই বাংলার মাটিতেই তাদের বিচার হবে। এই লুটেরা চক্রের মূল হোতারা যখন বিদেশে বসে ষড়যন্ত্রের নীল নকশা তৈরি করে, তখন তাদের দম্ভ দেখার মতো হয়। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, এই বাংলার প্রতিটি ধূলিকণা তাদের বিশ্বাসঘাতকতার সাক্ষী। এই অর্থ পাচারকারী ইউনূস গং এবং তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের দিন ফুরিয়ে এসেছে। তাদের প্রতিটি ব্যাংক একাউন্ট এবং অবৈধ সম্পত্তির উৎস খুঁজে বের করা হবে—এক একটি টাকা তাদের রক্ত দিয়ে শোধ করতে হবে। এদের দম্ভ ভেঙে চুরমার করার সময় আজ দোরগোড়ায়।
ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যারা দেশটাকে আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে, সেই জানোয়ার তুল্য ব্যক্তিদের মনে রাখা উচিত—বাংলার মাটি কখনোই বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমা করেনি। যারা প্রশাসনিক বাহিনীকে কুক্ষিগত করে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম চালাচ্ছে, তাদের দিন ঘনিয়ে এসেছে। নেত্রী শেখ হাসিনা শিগগিরই বাংলার মাটিতে ফিরে আসবেন। দেশবাসীর প্রতি আমাদের আকুল আবেদন—আপনারা ধৈর্য ধারণ করুন ও ঐক্যবদ্ধ থাকুন। বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে যেদিন জনগণ রুখে দাঁড়াবে, সেদিন এই অপরাধীদের পালানোর পথ থাকবে না। এই জংলিদের শাসনামলে যখন প্রতিটি ঘরে কান্না আর আহাজারি, তখন আমাদের শপথ হোক—তাদের এই অপশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। এদের প্রতিটি অপকর্মের হিসাব নেওয়ার জন্য বাংলার প্রতিটি মানুষ আজ ফুঁসছে। কলকাঠি নাড়া এই মাস্টারমাইন্ডরা যখন দেখবে তাদের সেই সাজানো বাগান ধুলোয় মিশে যাচ্ছে, তখন তাদের সেই আর্তনাদ দেখার মতো হবে। এরা শুধু ক্ষমতার দখলদারই নয়, এরা ইতিহাসের অভিশপ্ত অধ্যায়। এদের শেষ দেখে ছাড়া বাংলার মানুষ আর ঘরে ফিরবে না।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
