ময়নুল হক বুলবুল
মেয়েটির নাম বিউটি রাণী পাল। ফেঞ্চুগঞ্জের একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।
পড়ালেখা করেছেন সাস্টে,ইংরেজি সাহিত্যে।
কিছুদিন আগে,২০২৬ সালের সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
সম্প্রতি ফেসবুকে আপলোড করা উনার একটা রীলস নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে।
মেঘলা দিনে স্কুলের উঠানে হেঁটে ভিডিও করেছেন, ফেসবুকে দেয়ার সময় সেটার সাথে “শ্রাবণের মেঘগুলো আজ জড়ো হল আকাশে” গান এড করেছেন। ভিডিওটা খারাপ না,একেবারে স্বাভাবিক, শালীন।তারপরও এটা নিয়ে কিছু মানুষ তুমুল সমালোচনা করে যাচ্ছে।
তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে কেউ কেউ সমালোচনাটা করছে হিংসা থেকে। একদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করা অন্যদিকে স্মার্ট, সুন্দরী আবার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষকও।সারাজীবন আমরা দেখছি আসছি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মেট্রিক পাশ। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ারা প্রাথমিকে শিক্ষকতা করবে এটা কল্পনাও কেউ করতো না।এখন দেশ সেরা মেধাবীরা এই পথে যাচ্ছে।যারা আধুনিক চিন্তা চেতনা ও সংস্কৃতি ধারণ করে।হিংসা করাই স্বাভাবিক!
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী করে তুলতে নাচ, গান, আবৃত্তি শেখানো হয়। আর এসব শেখাতে এমন শিক্ষকরাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
যে ভিডিও দিয়ে স্লাট-শেমিং হচ্ছে, সেই ভিডিওতে স্লাট-শেমিং করার মতো কিছুই নেই। কোনো মানদণ্ডেই এটা প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করে না। তবুও জোর করে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এর বাইরে কিছুই নয়।
সম্ভবত এখানে অন্য কিছু আছে।
তবে অন্ধ সমালোচনার মাঝেও আশার আলো এটাই যে, অনেকেই উনার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।বিশেষ করে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা উনার সহকর্মীরা। সেইম গানের সাথে একই ধরনের ভিডিও করে অনেকে ফেসবুকে আপলোডও দিচ্ছে।
