👉:- আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি নিয়ে গবেষণারত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উঠে আসছে। ওইসব গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরও শেখ হাসিনা এখনও বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী রাজনীতিক।
গবেষণার মূল বক্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন থিংক-ট্যাংক ও অ্যাকাডেমিক জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধে বলা হচ্ছে, টানা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকাকালীন শেখ হাসিনা যেভাবে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছেন, তা তাঁর জনপ্রিয়তার প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি ধারাবাহিকভাবে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্ব
মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন জনসাধারণের মধ্যে তাঁর নেতৃত্বের প্রতি এক ধরণের আস্থা তৈরি করেছিল। প্রবন্ধগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক শক্তিশালী নারী নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে তিনি কেবল দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করেছিলেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনপ্রিয়তা
যদিও ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তবুও মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্লেষণে উঠে আসছে যে, তাঁর দলের একটি সুসংগঠিত ভোটব্যাংক এবং বিশাল অনুসারী গোষ্ঠী এখনও তাঁর নেতৃত্বের ওপর আস্থাশীল। গবেষণায় বলা হচ্ছে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে যদি নিরপেক্ষ জরিপ চালানো হয়, তবে শেখ হাসিনা জনপ্রিয়তার দৌড়ে এখনও শীর্ষস্থানে থাকবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
ওয়াশিংটনভিত্তিক কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও আওয়ামী লীগ সভাপতির ব্যক্তিগত ইমেজ এবং তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফলভোগীদের মাঝে তাঁর জনপ্রিয়তা ম্লান হয়নি। তবে প্রশাসনিক ও আইনি বিভিন্ন জটিলতা তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এসব গবেষণাপত্র ও প্রবন্ধে বারবার এটিই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও রাজনীতির আলোচনায় শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা একটি অনস্বীকার্য সত্য।
