মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ফাঁদ ও ট্রাম্পের আরোপিত ট্যারিফের জেরে গেল এক বছরে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশ দেড় বিলিয়ন (১৪৭ কোটি) ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হারিয়েছে। একই সময়ে প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এবং পাকিস্তান এই দুই বাজারে নিজেদের রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন বস্ত্র দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি পৌনে চার শতাংশ বা ২৮ কোটি ডলার কমেছে।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ক্ষতির পরিমাণ ১১৯ কোটি ডলার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সংকট, অতিরিক্ত লিড টাইম এবং দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের পোশাক (কটনির্ভর) রপ্তানি করার মানসিকতাই বাংলাদেশকে এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান, শুল্ক সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বায়াররা এখন একটি স্থিতিশীল অবস্থায় এলেও বৈশ্বিক ও স্থানীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারখানাগুলোর নিজস্ব দক্ষতা (এফিশিয়েন্সি) বাড়ানোর বিকল্প নেই।
আমদানিকারকদের চাপ ও অভ্যন্তরীণ সংকট সত্ত্বেও সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থা ও ব্যবসায়িক দক্ষতার কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান প্রবৃদ্ধি বজায় রাখছে।
উদাহরণস্বরূপ, স্নোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম খালেদ জানান, প্রতি বছর ১৫-২০% প্রবৃদ্ধি বজায় রেখে চলতি বছর ৩২০ মিলিয়ন এবং আগামী বছর ৩৫০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তারা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, সংকট কাটাতে সরকার ও উদ্যোক্তা—উভয় পক্ষকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।
এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসন, বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রণোদনা প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদেরও ভূমিকা রয়েছে। পণ্য বৈচিত্র্যকরণ (কটন থেকে নন-কটন পোশাক), উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কম খরচে মানসম্মত পণ্য প্রস্তুত করা। এমন পরামর্শ সিপিডির।
