স্টেজ-৪ ক্যানসারে আক্রান্ত মুম্যূর্ষু মায়ের আকুতি উপেক্ষা করে সাধু চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারারুদ্ধ রাখা শাসকগোষ্ঠীর চরম বর্বরতা ও হিংস্রতার প্রমাণ।
দেশের সংখ্যালঘু ও সনাতনী সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার আদায়ের কথা বলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু ক্ষোভের বিষয় হলো, ক্ষমতার পরিবর্তন ও বিএনপি সরকারের শাসনামলেও সেই একই অন্যায়, দমন-পীড়ন ও হয়রানি নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে।
একদিকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নে নির্দোষ সাধু কারাগারে বন্দি, অন্যদিকে তার বৃদ্ধা মা সন্ধ্যা রানী ধর হাসপাতালের HDU-তে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। স্টেজ-৪ ক্যানসারে আক্রান্ত এই অসহায় মা নিম্ন রক্তচাপ ও তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ফের হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন।
নিজের সন্তানকে শেষবার দেখার আকুতি নিয়ে তিনি বিগত ড. ইউনূস সরকার থেকে শুরু করে বিএনপি সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব—তারেক রহমানকেও সন্তান সম্বোধন করে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতার দম্ভের কাছে কি মায়ের এই অশ্রু ও মানবিক আর্জি পরাজিত হবে?
একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিজ ধর্মের মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা কোনো অপরাধ হতে পারে না। রাজনৈতিক ফায়দা ও দমন নীতির কারণে একজন নিরীহ সাধুকে আটকে রেখে এক আশঙ্কাজনক অসুস্থ মায়ের জীবনের শেষ ইচ্ছেকে দলঘটিত করা চরম অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ।
আমরা স্পষ্ট ভাষায় এই জুলুমের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
